ক্ষতিকর ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান অক্ষত রেখে এবং কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ’ দ্রুত আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। সংগঠনটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় অধ্যাদেশে প্রস্তাবিত ক্ষতিকর ই–সিগারেট নিষিদ্ধের বিধানটি কোনোভাবেই বাদ দেয়া যাবে না।
বুধবার (১ এপ্রিল) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পবা জানায়, বাংলাদেশে তামাকের কারণে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে এবং বছরে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তামাক চাষ ও প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে ব্যাপক হারে বনভূমি উজাড় হচ্ছে এবং রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে বায়ু ও পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
পবা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ থেকে ই–সিগারেট আমদানি, উৎপাদন ও ব্যবহারের বিধানটি বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তামাক কোম্পানিগুলোর প্ররোচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে সংগঠনটি সতর্ক করে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের ১৩২টি দেশে ইতোমধ্যে ই–সিগারেট নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রসার বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
পবা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে যে, বর্তমান সংসদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ তামাক কোম্পানির অনৈতিক হস্তক্ষেপ উপেক্ষা করবেন এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করবেন।