মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরান কর্তৃক কার্যত বন্ধ করে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা সহায়তা না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’ হবে।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, রোববার দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সহায়তা করেছে, তেমনি হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে ইউরোপকেও সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, প্রণালীটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি দামের তীব্র বৃদ্ধি ঘটেছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘যদি কোনো প্রতিক্রিয়া না আসে বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসে, তাহলে আমি মনে করি ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য এটি খুবই খারাপ হবে।’
এর আগে বিভিন্ন সময় তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সহায়তার ওপর নির্ভর করে ন্যাটো মিত্ররা সুবিধা ভোগ করছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, চীনের সহায়তা পাওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার কারণে তার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে নির্ধারিত আসন্ন শীর্ষ বৈঠক বিলম্বিত হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘শীর্ষ বৈঠকের আগেই আমরা জানতে চাই।’ তিনি উল্লেখ করেন, চীনসহ অনেক ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, ‘যারা হরমুজ প্রণালীর সুবিধাভোগী, তাদের সেখানে কোনো খারাপ ঘটনা না ঘটতে দেওয়া নিশ্চিত করতে সহায়তা করা স্বাভাবিক।’
এদিকে ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে তার সঙ্গে সফররত সাংবাদিকদের আলাদাভাবে জানান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ‘সাতটি’ দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে।
নির্দিষ্টভাবে কী ধরনের সহায়তা তিনি চান—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, তিনি মাইন অপসারণকারী জাহাজ (মাইনসুইপার) চান, পাশাপাশি ‘ইরানি উপকূলের কাছে থাকা কিছু খারাপ শক্তিকে মোকাবিলা করতে পারবে’, এমন লোকজনও প্রয়োজন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে, এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সরবরাহ ঝুঁকির কারণে গত দুই সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে।
রবিবার লেনদেন শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট তেলের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ১১ ডলারে ওঠে।