দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু হচ্ছে আজ। ভারতের পর্যটন নগরী গোয়ায় পর্দা উঠছে অষ্টম নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে বাংলাদেশ শিবিরে বড় চমক, হ্যাটট্রিক মিশনের নামার আগে অধিনায়কত্বে পরিবর্তন করেছেন কোচ পিটার বাটলার।
মুকুট জয়ের চেয়ে ধরে রাখার কঠিন কাজটিই ২০২৪ সালে করেছিলো পিটার বাটলারের শিষ্যরা। আবারো সেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে জাতীয় নারী ফুটবল দলের এই কোচকে।
অধিনায়কদের ফটোসেশনে বাংলাদেশ অধিনায়ক হিসেবে হাজির হন মারিয়া মান্দা। উইমেন‘স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশনে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। বলা যায় জওহরলাল নেহেরু ফাতোরদা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় পা ফেলার আগে নাটকীয় বদল গেলো দু‘বারের চ্যাম্পিয়নদের।
এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ছয়টি দেশ। তবে রাজনৈতিক কারণে অংশ নিচ্ছে না পাকিস্তান। আয়োজক দেশ ভারত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় তারা। তবুও দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর ঘিরে আগ্রহের কমতি নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য এবারের আসরটি ভিন্ন মাত্রার গুরুত্ব বহন করছে।
টানা দু‘বারের চ্যাম্পিয়নদের এবার ইতিহাস গড়ার হাতছারি। ২০২২ ও ২০২৪ সালে শিরোপা জয়ের পর এবার লক্ষ্য হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া। দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরো দৃঢ় করতেই প্রস্তুত সাবিনা–মাসুরাদের উত্তরসূরিরা। নতুন প্রজন্মের সৌরভী, অর্পিতাদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ঋতুপর্ণা, আফঈদা, মনিকা, শামসুন্নাহারদের কাঁধে এখন বাংলাদেশের স্বপ্ন।
থাইল্যান্ডে দুই সপ্তাহের অনুশীলনের পাশাপাশি স্থানীয় দু‘টি ক্লাবের বিপক্ষে দু‘টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে পিটারের শিষ্যরা। তাতে নিজেদের প্রস্তুতিও বেশ ভালোভাবেই সেরে নিয়েছে দলটি। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও রয়েছে দারুণ আত্মবিশ্বাস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশ নিজেদের নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এক সময় যেখানে ভারত ও নেপালের আধিপত্য ছিলো স্পষ্ট, সেখানে এখন বাংলাদেশের নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়। ধারাবাহিক সাফল্য মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। তবে এবার পথটা সহজ হবে না। স্বাগতিক ভারত নিজেদের মাটিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে চায়।
সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ সময় বিকাল পাঁচটায় ভুটান–নেপাল এবং রাত আটটায় ভারত–মালদ্বীপ ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে অষ্টম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ।
বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ঈদের দিন (২৮ মে) মালদ্বীপের বিপক্ষে। গ্রুপের শেষ ম্যাচ ৩১ মে স্বাগতিক ভারতের সঙ্গে। দু‘টি খেলাই রাত আটটায়। তিন জুন সেমিফাইনাল এবং ছয় জুন হবে ফাইনাল।
হাসিব