লালচে রঙের আঁশযুক্ত খোসা আর ভেতরে রসালো, সুস্বাদু ফল—বলছিলাম প্রবাস থেকে আসা অনন্য ফল রামবুটান–এর কথা। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে তুমুল জনপ্রিয় এই ফলটি এখন হরদম ফলছে নরসিংদীর শিবপুরে। বিদেশী এই রামবুটান চাষ করে অভাবনীয় সফলতা পেয়ে চমক লাগিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় কৃষক জামালউদ্দিন। বাজারে আকাশছোঁয়া চাহিদা আর ভালো দাম পাওয়ায় তাঁর এই সাফল্য এখন পুরো এলাকার কৃষকদের মাঝে নতুন স্বপ্নের আলো দেখাচ্ছে।
প্রবাস জীবন থেকে এক ফলের গল্প
জীবিকার প্রয়োজনে জীবনের দীর্ঘ ১৫টি বছর মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ে কাটিয়েছিলেন জামালউদ্দিন। প্রবাসে থাকার সময় প্রতিনিয়ত ভাবতেন দেশে ফিরে ভিন্ন কিছু করার। সেই ভাবনা থেকেই ২০০৬ সালে দেশে ফেরার সময় শখের বশে প্রবাস থেকে মাত্র এক কেজি রামবুটান সাথে নিয়ে আসেন।
অনেকেই ভেবেছিলেন বাংলাদেশের মাটিতে এই বিদেশী গাছ টিকবে না। কিন্তু জামালউদ্দিন দমে যাননি। সম্পূর্ণ দেশীয় উপায়ে নিজের বাড়িতে বীজের যত্ন নিয়ে চারা তৈরি করেন এবং নিজের লটকন বাগানের ফাঁকে ফাঁকে ১৭টি চারা পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করেন। দীর্ঘ যত্ন ও ভালোবাসার পর ২০১২ সালে গাছগুলোতে প্রথম ফল দেখতে পান তিনি।
বছর গড়ালেই ফলন বাড়তে থাকে হু হু করে। চলতি মৌসুমে মাত্র পাঁচটি প্রাপ্তবয়স্ক গাছ থেকে তিনি কয়েক লাখ টাকার রামবুটান বিক্রি করেছেন। সাধারণ এক প্রবাসী থেকে জামালউদ্দিন এখন এলাকার সফল উদ্যোক্তা।
ছড়িয়ে পড়ছে সাফল্য, নতুন স্বপ্নের বোনা
জামালউদ্দিনের সাফল্য দেখে এখন হাত গুটিয়ে বসে নেই এলাকার অন্য কৃষকরাও। তাঁর বাগান দেখতে প্রতিদিন বহু মানুষ ভিড় করছেন। অনেক কৃষক জামালউদ্দিনের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ও চারা সংগ্রহ করে ১০টি, ২০টি করে গাছ লাগাতে শুরু করেছেন। শিবপুরের জয়নগর, লাখপুর ও নৌকাঘাটাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এখন ছড়িয়ে পড়ছে এই সুস্বাদু ফলের আবাদ।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জামালউদ্দিনের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিখাতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। যদি কৃষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, গুণগত মানসম্পন্ন চারা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা দেওয়া যায়, তবে বিখ্যাত নরসিংদীর লটকনের পাশাপাশি রামবুটানও দেশের বাজারে বড় ধরনের বাণিজ্যিক বিপ্লব ঘটাতে পারবে।