আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড ম্যাচকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে চিহিৃত করেছে আটলান্টা পুলিশ। বুধবারের ঐতিহাসিক এই ম্যাচের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাস্তায় তো বটেই, বিশেষ করে মার্সিডিজ–বেঞ্জ স্টেডিয়ামের (আটলান্টা স্টেডিয়াম) ভেতরে ও চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের আগের দিন ভার্জিনিয়ার লিসবার্গে ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোঅপারেশন সেন্টারে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ফিফা, এফবিআই এবং আটলান্টা ও মিয়ামি পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে ব্রিটিশ এবং আর্জেন্টিনার নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও অংশ নেন, যাদের মধ্যে বুয়েনস আইরেস সিটি পুলিশের গণ–ইভেন্ট বিভাগের আলেহান্দ্রো ইবোলি এবং ক্রীড়া ইভেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালক ফ্রাঙ্কো বার্লিন উপস্থিত ছিলেন।
আর্জেন্টিনার নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের চারপাশে এবং গ্যালারিতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে দুই দলের সমর্থকদের যতটা সম্ভব আলাদা রাখার বিষয়ে। সাধারণত বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা স্টেডিয়ামের এক প্রান্ত জুড়ে থাকলেও গ্যালারির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকেন। তবে এবারই প্রথম তারা এমন এক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে, যাদের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আর্জেন্টাইন সমর্থকরা ৪ নম্বর গেট দিয়ে এবং ইংল্যান্ডের সমর্থকরা ৩ নম্বর গেট দিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন। আর্জেন্টিনার সমর্থকরা মার্সিডিজ–বেঞ্জ স্টেডিয়ামের এক প্রান্তে থাকবেন এবং ইংলিশ সমর্থকরা থাকবেন ঠিক তার উল্টো প্রান্তে।
ভার্জিনিয়ার বৈঠকে স্টেডিয়ামের চারপাশে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। গ্যালারি ও সাধারণ এলাকায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এছাড়া ফ্যান ফেস্ট এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে, যেখানে মঙ্গলবার স্পেন বনাম ফ্রান্সের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচটি বড় পর্দায় দেখানো হবে।
পাশাপাশি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের একটি দল মোতায়েন থাকবে। তবে তাদের কাজ কোনো অভিবাসন অভিযান চালানো নয়; বরং কালোবাজারে টিকিট বিক্রি এবং নকল জার্সি বা মার্চেন্ডাইজ বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ এখানে জাল জার্সি বিক্রেতারা প্রায়ই আইন ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা চালায়। এছাড়া মাদক চোরাচালান ঠেকাতে যাতায়াত পথগুলোতে চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সূত্র: টি স্পোর্টস।