রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দলটি যেমন টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করেছে, তেমনি গড়েছে একাধিক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। আগামী রবিবারের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান পরাশক্তি স্পেন।
ফাইনালে ওঠার এই যাত্রায় আর্জেন্টিনা দল এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসির গড়া উল্লেখযোগ্য রেকর্ডগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ফিফা র্যাঙ্কিং:
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা ১ নম্বরে এবং স্পেন ২ নম্বরে ছিল। ১৯৯২ সালে র্যাঙ্কিং চালুর পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে শীর্ষ দুটি দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান:
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আর্জেন্টিনা ও স্পেন এখন পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে দুই দলই ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে এবং বাকি দুটি ড্র হয়েছে।
আরও পড়ুন>> ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনার দলীয় অর্জন ও রেকর্ড
টানা দ্বিতীয় ফাইনাল:
১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম আর্জেন্টিনা টানা দুবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল। সব মিলিয়ে এটি তাদের সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা ব্রাজিলের সমান (জার্মানি সর্বোচ্চ ৮ বার)।
টানা শিরোপার হাতছানি:
ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮, ১৯৬২) পর ইতিহাসের তৃতীয় দেশ হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ এখন আলবিসেলেস্তেদের সামনে।

আক্রমণভাগের ধার:
আর্জেন্টিনা টানা ১৩টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত দুটি বা তার বেশি গোল করার রেকর্ড গড়েছে। এর আগে উরুগুয়ের টানা ১১ ম্যাচে এমন কীর্তি ছিল।
ইংল্যান্ড–বধা:
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার খরা কাটিয়েছে আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর (টাইব্রেকার ছাড়া) ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এটিই তাদের প্রথম জয়।
বল দখলে আধিপত্য:
৫৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডনের গোলের পর থেকে ৯২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের গোল হওয়া পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পায়ে বল ছিল মাত্র ১২%, আর আর্জেন্টিনার দখলে ছিল ৮৮%।

রেকর্ডবুকে লিওনেল মেসি
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচে ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ডবই ওলট–পালট করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই জাদুকর।
সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়:
৩৯ বছর ২১ দিন বয়সে মাঠে নেমে মেসি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাসে গোলকিপার বাদে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে খেলার রেকর্ড গড়েছেন।
টানা অবদান:
২০২২ সাল থেকে শুরু করে মেসি টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করেছেন, যা ১৯৬৬ সালের পর সর্বোচ্চ।
ফাইনালে বিরল কীর্তি গড়ার হাতছানি:
রবিবারের ফাইনালে মাঠে নামলে কাফুর পর ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার বিরল কীর্তি গড়বেন তিনি। (নিজের খেলা ১৩টি বড় টুর্নামেন্টের মধ্যে ৮টিতেই ফাইনালে উঠেছেন মেসি)।
গোল ও অ্যাসিস্ট:
বিশ্বকাপে নিজের ৩৩ ম্যাচে মেসি ৩৩টি গোলে অবদান রেখেছেন (২১টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট), যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
নকআউট স্পেশালিস্ট:
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির অ্যাসিস্ট এখন ১০টি। গত ৬০ বছরে যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে এটি অন্তত ৬টি বেশি (পেলে ও গ্রিজম্যানের আছে ৪টি করে)।

শীর্ষ গোলদাতা:
৮ গোল নিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এই বিশ্বকাপের শীর্ষ গোলদাতা এবং ৪টি অ্যাসিস্ট নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন।
সতীর্থদের সাথে রসায়ন:
এনজো ফার্নান্দেজ হলেন আর্জেন্টিনার প্রথম খেলোয়াড়, যাঁকে মেসি বিশ্বকাপে দুবার অ্যাসিস্ট করলেন। অন্যদিকে লাওতারো মার্তিনেজকে বিশ্বকাপে প্রথমবার অ্যাসিস্ট করলেও সব মিলিয়ে এটি ছিল লাওতারোকে দেওয়া মেসির ১০ম অ্যাসিস্ট।
মাঠের আধিপত্য:
১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরির রেকর্ড এখন মেসির (৯৯টি)। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ম্যারাডোনাকে (৭১টি)। শুধু এই বিশ্বকাপেই তিনি ২৫টি সুযোগ তৈরি করেছেন।
ড্রিবলিং ও বল দখল:
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ৯টি সফল ড্রিবলিং করেছেন এবং ১২ বার বল দখলের লড়াই জিতেছেন। অতিরিক্ত সময়ে না গড়ানো ম্যাচে ৫.২ মাইল পথ দৌড়েছেন তিনি, যা এই আসরে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ।