ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে বিরোধের জেরে এলজিইডির এক প্রকৌশলীকে মারধরের মামলায় অভিযুক্ত ঠিকাদার লোকমান হোসেনের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে ফোরকান মিয়া নামের ওই ম্যানেজারকে আটক করে পুলিশ।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলাম নবীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় ঠিকাদার লোকমান হোসেন, তার গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, নবীনগর উপজেলার মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের দায়িত্ব পায় রাজশাহীর মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রায় ১৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এই সড়কটি ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নির্মাণ করছিলেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন। তবে শুরু থেকেই নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রকৌশলীরা কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে ঠিকাদার ও তার সহযোগীরা তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে উপসহকারী প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় এবং তাকে ধাওয়া দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী উপসহকারী প্রকৌশলী মির্জা তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ধরা পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করে ঠিকাদার রাতে গোপনে কাজ চালিয়ে যান। পরে রাতেই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলে যেখানে অনিয়ম হয়েছে সেসব অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিন দুপুরে এলজিইডির একটি প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে সরেজমিনে গেলে আমার উপর হামলা হয়। এ ঘটনায় আমি নবীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছি।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি ফোরকান মিয়াকে আজ বুধবার আদালতে পাঠানোর প্রস্ততি চলছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
রিফাত আন নাবিল/এজে/দীপ্ত সংবাদ