নেপালে ঘটে যাওয়া বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের মূল কারণ ভূমিকম্প নয়, বরং তুষারধসের কারণে সৃষ্ট হিমবাহ ভাঙন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তুষারধসের কারণেই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা এসেছিল নেপালের ভোটেকোশী নদীতে। হিমালয়ের অন্যতম পর্বতশৃঙ্গ ল্যাংট্যাং লিরুঙের নিকটবর্তী জায়গা থেকে নীচে নেমে এসেছে হিমবাহের একাংশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ইউএসজিএস থেকে বলা হয়েছে, ৫১২৭ মিটার উচ্চতায় হিমবাহটির একাংশ ভেঙে গিয়েছিল। ঢালু পথে বেশ কিছুটা গড়িয়ে আসার পর কয়েকশো মিটার উচ্চতা থেকে তুষার, কাদামাটি এসে পড়ে দুই পর্বতের মধ্যবর্তী সঙ্কীর্ণ উপত্যকায়। পর্বতের ঢাল বরাবর ওই তুষার এবং কাদা–পাথরের স্রোত নীচের দিকে নামতে শুরু করে।
চীন সরকারের ভূতত্ত্ববিদ গুয়ো জাও চ্যাং তথ্যানুযায়ী, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসা তুষার, কাদামাটি ও পাথরের স্রোত প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৬৫ ফুট (৫০ মিটার) গতিতে ধাবিত হয়েছিল। এই তীব্র গতির কারণে নদী অববাহিকার মানুষ সামলে ওঠার আগেই প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে যায়। ৫ হাজার ২০০ মিটার উঁচুতে ধসে পড়া সেই কাদা–পাথরের স্রোত পর্বতের ঢাল বেয়ে লিন্দেখোলা নদী হয়ে নেপাল–চীন সীমান্তের তিব্বতীয় গিরং বন্দরে আঘাত হানে এবং দু‘কূল ছাপিয়ে ঘরবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেয়।
পরবর্তীকালে কাদা–পাথরের এই প্রলয়ঙ্করি প্রবাহ ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর খাত ধরে তীব্র বেগে তিমুরে, স্যাপ্রুবেসী ও হাকুবেসী পার হয়ে ৬৫ কিলোমিটার দূরে বেত্রীবতী ও ত্রিশূলী বাজারে আছড়ে পড়ে।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কাদা–পাথরের স্রোত আছড়ে পড়ছে ত্রিশূলী বাজারে। ধারণ মানুষ জীবন বাঁচাতে ছোটাছুটি করার মুহূর্তেই খয়েরি রঙের কাদা ও পাথরের ঢল পুরো এলাকাকে গ্রাস করে নেয়।
পরবর্তীতে নিম্ন অববাহিকা বরাবর আরও নেমে এসে দেবীঘাট পার হয়ে উৎসমুখ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে কোলতারপুরে এসে ক্ষান্ত হয় এই কাদা–পাথরের স্রোত।
নেপালের ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন’–এর তথ্যমতে, হড়পা বানের কারণে ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীতে এসে জমেছিল বিপুল পরিমাণ তুষার গলা পানি, বড় পাথর, কাদামাটি ইত্যাদি। এর ফলে ওই দুই নদীতে দ্রুত জলস্তর বৃদ্ধি হতে থাকে। গলচি এলাকায় মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে নদীর জলস্তর ৯ মিটার বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। দ্রুত গলছে হিমালয়ের হিমবাহগুলো। এর ফলেই বুধবার নেপাল–চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন আকস্মিক ও মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে।
এসএ