শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬
শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬

নওগাঁর চার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আদালতে দায় স্বীকার

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

নওগাঁর নিয়ামতপুরে দেশব্যাপী আলোচিত গত ২১ এপ্রিলে একই পরিবারের ০৪ সদস্যের (পিতা, মাতা এবং দুই শিশু সন্তান) এর নির্মম এবং লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ইতিমধ্যে করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজন আসামি সবুজ (ভাগ্নে) , শাহীন (ভাগ্নে) এবং শহিদুল (ভগ্নিপতি এবং শাহিনের পিতা) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সাথে আসামিদের দেখানো মতে জঙ্গল থেকে এবং পানির ডোবা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো বড় আকারের হাসুয়া এবং ধারালো বৃহৎ ছোড়া উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ভাগ্নে শাহিন আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া অপর ভাগ্নে শাহীন মন্ডল এবং তার পিতা শহিদুল শহিদুল মন্ডলকে আদালত দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাপবেটা কে পুলিশ রিমান্ডে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসা করা হয়। পুলিশ রিমান্ডে তারাও উভয় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার করার কথা স্বীকার করে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে পুলিশ রিমান্ডে থাকা হত্যাকাণ্ডের শিকার হাবিবুরের অপর ভাগ্নে আসামি শাহিন মন্ডল আদালতে মামা এবং মামিসহ চার খুনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন এবং খুন করার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে।

জবানবন্দিতে সে স্বীকার করে জানায় পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে তারা তার মামাকে হত্যা করে। সে নিজেই উদ্ধারকৃত ধারালো হাসুয়া দ্বারা তার মামার গলা কাটার চেষ্টা করে এবং তার বাবা শহিদুল, কাজিন সবুজসহ কয়েকজন তার পা, মুখ এবং বুক চেপে ধরে রাখে। ভাগ্নে শাহিনের এ সময় খারাপ লাগলে, নিহত হাবিবের চাচাতো ভাই স্বপন ধারালো বড় ছোড়া দিয়ে হাবিবের গলা কেটে ফেলে।

এরপর তারা মামীকে হত্যা করে। এরপর তারা হত্যাকাণ্ডের শিকার মামার ঘরে গিয়ে দলিল এবং গরু বিক্রির টাকার খোঁজ করে। এ সময় শিশু মামাতো ভাই জাকির এবং মামাতো বোন সাদিয়া ঘুম থেকে জেগে উঠলে, তাদেরকে, সবুজ, শাহীন, শহিদুল সহ কয়েকজন মিলে জবাই করে হত্যা করে। এমন তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, পারিবারিক জমিজমার দ্বন্দ্বের কারণেই নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে হাবিবুর (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও ছোট মেয়ে সাদিয়া খাতুন () কে গলা কেটে হত্যা করা হয়। দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা পারিবারিক জমিজমার দ্বন্দ্বের কারণে এই নির্মম হত্যাকান্ড ঘটায় নিহত হাবিবুরের আপন ভাগ্নে, চাচাতো ভাই ও দুলাভাই।

রউফ রিপন

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More