বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং স্বাধীনতার ঘোষক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, শনিবার (৩০ মে) ।
১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশি–বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য তাকে হত্যা করে।
জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মনসুর রহমান কলকাতায় একজন কেমিস্ট হিসেবে কাজ করতেন।শিক্ষাজীবন শেষে জিয়াউর রহমান ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি কাবুলে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে ভর্তি হন। ১৯৫৫ সালে তিনি কমিশন লাভ করেন।
ঠিক সেই সময় ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘উই রিভোল্ট’ বলে বিদ্রোহ করেন। এরপর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং ব্রিগেড ফোর্স ‘জেড ফোর্স‘- এর অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য পান ‘বীর উত্তম‘ খেতাব।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি–জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের ৮ম রাষ্ট্রপতি হন।
জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। তাই তাকে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক বলা হয়। তিনি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠারও স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন।
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত (৮ দিন) বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিন দেশব্যাপী বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হয় এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার (৩০ মে) ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের সকল দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এরপর বেলা ১১টায় শে–রে–বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
এসএ