কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আগে থেকেই সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহে সমস্যার কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটিতে সীমিত মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল।

কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর কেন্দ্রটির উৎপাদন বাড়তে শুরু করে। তবে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে ৮০০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

এর আগে কেন্দ্রটি দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। ৯ সেপ্টেম্বর রাতে একপর্যায়ে সরবরাহ ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও পরে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন ৭৩২ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আদানি পাওয়ার থেকে বাংলাদেশে ৭৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। শুক্রবার সকাল ৮টায় ৭৩৪, ৯টায় ৭৩৭, ১০টায় ৭২৪ এবং সকাল ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরুর আগে বয়লারটি ঠান্ডা হতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এরপর মেরামতের কাজ শুরু হবে। ফলে বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির কারণে দেশে লোডশেডিংও বেড়েছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। আদানির একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় শুক্রবার লোডশেডিং আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত মাসের শেষ দিক থেকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়ছিল। দিনের বেলায় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার সময়ে তা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ এখন জাতীয় গ্রিডে পাওয়া যাচ্ছে না।

পিডিবির সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, দেশের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় স্থাপিত কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে।

বন্ধ থাকা ইউনিটটি দ্রুত পুনরায় চালু করা না গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More