কুমিল্লা জেলায় স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৪ আসামির মধ্যে দুই কিশোরকে গাজীপুর জেলার টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানো হচ্ছে। অপর দুই প্রাপ্তবয়স্ক আসামি তুহিন (১৯) ও সিয়ামকে (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর দক্ষিণ মডেল থানা এসআই মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ৪ আসামিকে কুমিল্লা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছি। আদালত দুই কিশোর ফাহাদ ও কামরুলকে সংশোধনাগারে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন। অপর দুই আসামি তুহিন ও সিয়াম কুমিল্লা কারাগারে থাকবে।’
এসআই আরও জানান, চার আসামির মধ্যে সিয়াম সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, ‘পুলিশ একটি হত্যা মামলায় ৪ আসামিকে আজ (রবিবার) রাতে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে সোমবার গাজীপুর জেলার টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।’
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চার আসামির মধ্যে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও কামরুল হাসান (১৬) বয়সে কিশোর হওয়ায় তাদের সংশোধনাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের কুমিল্লা কারাগারে রাখা হয়েছে।
এর আগে, রবিবার রাতে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৪ আসামির মধ্যে সিয়াম ছাড়া অপর তিনজন (তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।
উল্লেখ্য, নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজ হওয়ার পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসের পাশের জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এসএ