সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইউটিউব— স্ক্রল করলেই এখন চোখের সামনে ভেসে উঠছে একটিই সংলাপ, ‘রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?’।
ফেসবুক পোস্ট, মন্তব্যের ঘর, মিম পেজ, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেন, এমনকি সরকারি দপ্তরের অফিসিয়াল পেজেও ব্যবহৃত হচ্ছে এই সংলাপ।
রবিবার (১৭ মে) নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ট্রেন্ড এখন বিনোদনের সমার্থক হয়ে উঠেছে।
ভাইরাল হওয়া মূল ভিডিওটিতে দেখা যায়, শহরের একটি ব্যস্ততম রাস্তার পাশে কাঁধে ঝোলা নেয়া এক গণক, সুঠাম দেহের অধিকারী এক যুবকের ভাগ্য গণনা করছেন। কথোপকথনের সময় যুবকের জীবনের নানা ঘটনার বর্ণনা দেয়ার পাশাপাশি প্রতিটি বাক্যের শেষেই গণকটি চোখের ইশারায় বিশেষ ভঙ্গিমায় বলছিলেন— ‘রাগ করলা?’।
বলার এই চাতুর্যপূর্ণ ভঙ্গি এবং একই বাক্য বারবার ব্যবহার করার বিষয়টি দ্রুতই নেটিজেনদের নজর কাড়ে। রাতারাতি লাখ লাখ ভিউ এবং শেয়ারের মাধ্যমে এটি ভাইরাল কন্টেন্টে পরিণত হয়।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মনে প্রশ্ন জাগে— ভাইরাল হওয়া ব্যক্তিটি কি আসলেই গণক? অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি কোনো গণক বা কবিরাজ নন, বরং একজন পেশাদার অভিনেতা। তার নাম ঈমান আলী।
প্রায় ২০–২২ বছর আগে সপরিবারে লালমনিরহাট জেলা থেকে গাজীপুর পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেই থেকে গাজীপুরেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল তার, যা পরবর্তীতে পেশায় রূপ নেয়।
বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অভিনয়ই তার জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম। বিভিন্ন নাট্যদল ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি নিয়মিত সামাজিক সচেতনতামূলক ও হাস্যরসাত্মক ভিডিওতে অভিনয় করেন।
সম্প্রতি একটি ফেসবুক ও ইউটিউব কন্টেন্টের জন্য কবিরাজের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঈমান আলী। সেই অভিনয়ের একটি অংশই কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আকস্মিক এই জনপ্রিয়তা নিয়ে ঈমান আলী বলেন, ‘আমি পেশাদার কোনো কবিরাজ নই। অভিনয়ের মাধ্যমে আমি চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলেছি মাত্র। অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। তবে অভিনয়ের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত হওয়ার ইচ্ছা ছিল, সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। আমি যত দিন বেঁচে থাকবো মানুষকে বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করবো।‘
বাস্তব জীবনের নানা পরিস্থিতির সাথে মিল রেখে নেটিজেনরা এখন এই ডায়ালগ ব্যবহার করে স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট তৈরি করছেন।
কেউ কেউ এই গণকের স্বভাবকে নিজ অফিসের ‘বস‘-এর আচরণের সঙ্গে তুলনা করছেন, আবার কেউ কেউ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কড়া আচরণের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাচ্ছেন এর মাঝে। ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশন, কমেন্ট বক্স কিংবা ইনবক্সের চ্যাটিং— সব জায়গাই যেন দখল করে নিয়েছে এই একটি মাত্র সংলাপ।
এই ট্রেন্ডের জনপ্রিয়তা শুধু সাধারণ মানুষ বা তারকাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জনসচেতনতা তৈরিতে একে লুফে নিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানও। গত ১৮ মে (সোমবার) রাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই ট্রেন্ড ব্যবহার করে একটি পোস্ট দেয়।
সেখানে লেখা হয়, ‘আর খালে ময়লা ফেলবা না, ওকে?’ এবং পরের লাইনেই যুক্ত করা হয়, ‘রাগ করলা?’।
ময়লা ফেলা বন্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এমন রসবোধসম্পন্ন ও সময়োপযোগী পোস্ট ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
মাসউদ/এসএ