
মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে পাঁচজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। এ ঘটনায় অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। এ সময় দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রীর এ পদক্ষেপকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
এদিকে চিকিৎসক সংকট ও শয্যাস্বল্পতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এটি বাস্তবায়িত হলে রোগী ভর্তির সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, মুরাদনগর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় ভালো মনে হয়েছে। তবে পরিদর্শনে কিছু অনিয়ম তার নজরে এসেছে। এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন, আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে মুরাদনগরের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মন্ত্রীর পরিদর্শন ও নির্দেশনার পর হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত হবে এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়ন হলে উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।






এই সংবাদে মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ আছে।