শিরোনাম
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলে নেই বড় দুই তারকা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: ইসি সৌদিগামী ৮৯ ফ্লাইট বাতিল, আটকা সাড়ে ১৪ হাজার যাত্রী মার্কিন নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে হুতিরা: ট্রাম্প ৪৫তম বিসিএস৩২১ দিনেও গেজেট হয়নি, অনিশ্চয়তায় ১৮০৭ সুপারিশপ্রাপ্তরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, এখন বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত: অর্থমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ৯ নভেম্বর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির এলপিজি ব্যবসায়ীদের দু’দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার হামের উপসর্গে আরও ৭ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১,৩২৭
দীপ্ত নিউজ
বাংলাদেশ

মাদকের অর্থ জোগাড় করতে ১১ মাসের কন্যা সন্তান বিক্রি, বাবাসহ আটক ৪

দীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দীপ্ত নিউজ ডেস্কপ্রকাশ :
মাদকের অর্থ জোগাড় করতে ১১ মাসের কন্যা সন্তান বিক্রি, বাবাসহ আটক ৪
ছবি: সংগৃহীত

মাদকের অর্থ জোগাড় করতে বাবার বিক্রি করে দেয়া ১১ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করেছে গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়াসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

প্রায় ২ মাস নিখোঁজ থাকার পর রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকার সোলেমান চৌকিদারের ছেলে শহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে রবিবার সকালে গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহার বাজার এলাকা থেকে শিশুটির বাবা হামিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছোট ওমরপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে বাসের হেলপার আব্দুল মজিদকে আটক করা হয়। পরে রাতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকা থেকে মোছা. মোরশেদাকে আটক করা হয়। সবশেষে মদনেরপাড়া সোলের মোড় এলাকায় শহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা বেগমকেও আটক করা হয়।

শিশুটির মা রুমানা আক্তার জানান, গত ১৭ জুলাই বিকালে হামিদুল গাইবান্ধা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন। ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি। ঘটনার দুই দিন পর রুমানাকে ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার শর্তে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন হামিদুল। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

পরে রুমানা গাইবান্ধা সদর থানায় এবং আদালতে অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মাদকের টাকা জোগাড় করতে হামিদুল স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্তান জন্মের পর নির্যাতন বেড়ে গেলে রুমানা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

শিশুটির নানি রোশনা বেগম বলেন, তারা দিনমজুর ও দরিদ্র পরিবারের সদস্য। হামিদুলের দাবি করা টাকা দেওয়ার সামর্থ্য তাদের ছিল না। টাকা না পেয়ে হামিদুল নিজের মেয়েকে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেন।

গাইবান্ধা ডিবি পুলিশের ওসি আব্দুল মোত্তালিব জানান, হামিদুল মিয়া ৩১ হাজার টাকায় তার শিশু কন্যাকে বাসের হেলপার আব্দুল মজিদের কাছে বিক্রি করেন। পরে আব্দুল মজিদ ও তার ফুফাতো বোন মোছা. মোরশেদা শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকায় মদনেরপাড়া সোলের মোড় এলাকার নিঃসন্তান দম্পতি শহিদুল ইসলাম ও আমেনা বেগমের কাছে বিক্রি করেন।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

এসএ