দীপ্ত নিউজ
ধর্ম

ইশারায় সালামের উত্তর দেওয়া যাবে?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ:
ইশারায় সালামের উত্তর দেওয়া যাবে?
ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সংস্কৃতি ও সম্ভাষণের অংশ সালাম। এক মুসলিমের সঙ্গে অপর মুসলিমের সাক্ষাতের সময় সালাম বিনিময় করা সুন্নত। সালামের মাধ্যমে মূলত একে–অপরের প্রতি শান্তি কামনা করেন।

মূলত ‘আস–সালাম’ শব্দটি আল্লাহ তায়ালার উত্তম নামসমূহের মধ্যে অন্যতম। যার অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তার আধার। বান্দা যখন এ কথা বলে তখন সে তার ভাইয়ের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও হেফাজত কামনা করে।

সালাম দেওয়া সুন্নত। কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যখন কেউ তোমাদেরকে সালাম প্রদান করে, তখন তোমরা তাকে তার চেয়ে উত্তম পন্থায় সালামের উত্তর দাও অথবা (অন্ততপক্ষে) সেই শব্দেই তার উত্তর দাও। (সুরা নিসা, আয়াত: ৮৬)

সালামের উত্তর সালামদাতাকে শুনিয়ে দেওয়া জরুরি। বিখ্যাত মুফাসসির কুরতুবী (রহ.) বলেন, যাকে সালাম দেওয়া হয়েছে, তিনি যখন সালামের উত্তর দেবেন, তখন সালামদাতাকে উত্তর শুনিয়ে দেবেন। কেননা, সালামদাতাকে উত্তর না শুনিয়ে দিলে তা উত্তর হিসেবে গণ্য হবে না।

বিখ্যাত ফকীহ তাহের ইবনে আব্দুর রশীদ (রহ.) বলেন, সালামের উত্তর যদি শ্রুত না হয়, তাহলে তার ওয়াজিব আদায় হবে না। কারণ, সালামের উত্তর শুনিয়ে দেওয়া ওয়াজিব।

তাই সালামের উত্তর মুখে না দিয়ে শুধু ইশারা করলে সালামের জবাব আদায় হবে না। বরং সাধারণ অবস্থায় হাতের ইশারায় সালাম দেওয়া বা সালামের জবাব দেওয়া নিষেধ। হাদিসে এটাকে ইহুদিদের বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি একটি আঙুলের ইশারায় সালাম করে, তবে তা ইহুদিদের রীতি। (আল–মুজামুল আওসাত, ৪৪৩৭)

তবে সালামদাতা যদি বধির হন কিংবা দূরে থাকেন, তাহলে মুখে উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ইশারাও করতে হবে। বিখ্যাত ফকীহ ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন, যদি সালামদাতা বধির হন, তাহলে সালামের উত্তরদাতার জন্য ঠোঁট নেড়ে এমনভাবে সালামের উত্তর দেওয়া জরুরি, যাতে তিনি বধির না হলে তা শুনতে পেতেন।

তাই কেউ সালাম দিলে মুখে সালামের উত্তর না দিয়ে শুধু মাথা নেড়ে কিংবা হাতের ইশারা করার মাধ্যমে সালামের জবাব দিলে তা আদায় হবে না।