শিরোনাম
ভারত,পাকিস্তান, শ্রীলংকার তুলনায় বাংলাদেশের ঋণের হার কম পূর্বনির্ধারিত স্থানেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চান শরীয়তপুরবাসী প্রতিমা বিসর্জন শেষে নদে পড়ে নিখোঁজ, ৪১ ঘণ্টা পর যুবকের লাশ উদ্ধার কক্সবাজারের হোটেলে ফের আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ৩ শতাধিক পর্যটক তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি নওগাঁয় শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে অটোরিকশায় মাইকিং, গ্রেপ্তার ২ ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ২৬ অক্টোবর থেকে চলবে মহানগর এক্সপ্রেস হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু পানিতে ডুবতে থাকা গাড়ি থেকে চালককে উদ্ধার করল সাংবাদিক রিয়াদে নিহত শাহেদের মরদেহ গ্রহণ করলেন শামা ওবায়েদ
দীপ্ত নিউজ
বাংলাদেশ

ভারত,পাকিস্তান, শ্রীলংকার তুলনায় বাংলাদেশের ঋণের হার কম

আল আমিন
আল আমিন
প্রকাশ:
ভারত,পাকিস্তান, শ্রীলংকার তুলনায় বাংলাদেশের ঋণের হার কম
ঋণের হার

মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের হার দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যভিত্তিক ২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশে থাকতে পারে। বিপরীতে, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটানের ঋণের অনুপাত অনেক বেশি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৮৩ শতাংশ, পাকিস্তানের ৭০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ৯৫ শতাংশ, মালদ্বীপের ১৩১ শতাংশ এবং ভুটানের ১১৬ শতাংশ হতে পারে। নেপালের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৪৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এ হিসাব অনুযায়ী, জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের হার ভারতের অর্ধেকেরও কম। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায়ও বাংলাদেশের ঋণের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অন্যদিকে, মালদ্বীপ ও ভুটানের ক্ষেত্রে সরকারি ঋণ তাদের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের আকারকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের এই ব্যবধান বাংলাদেশের তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক সরকারি ঋণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উন্নয়ন ব্যয়ের চাপের মধ্যেও জিডিপির অনুপাতে ঋণের হার তুলনামূলক কম থাকা দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত কম থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়ন খাতে ব্যয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত নমনীয়তা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ সুবিধা কাজে লাগাতে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে টেকসই নীতি অনুসরণ, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশের এই তুলনামূলক অবস্থান ধরে রাখতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগ সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নতুন ঋণ থেকে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল পাওয়া এবং ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উন্নয়ন চাহিদা পূরণের চাপে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা বজায় রাখার পাশাপাশি সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বাসস

এই সংবাদে মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ আছে।