প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র এবং ব্রাজিলিয়ান জার্সির চাপ ছাপিয়ে এবার চেনা ছন্দে ফিরল ব্রাজিল।
শনিবার (২০ জুন) ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে হাইতি‘কে ৩–০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিল কার্লো আনচেলত্তির দল।
‘সি‘ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগকে চাপে রাখে ব্রাজিল। যদিও ১২ মিনিটে রাফিনিয়া বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে তাতে দমে যায়নি কার্লো আনচেলত্তি শিষ্যরা।
ম্যাচের ২২ মিনিটে রাফিনিয়া গোল করার অবিশ্বাস্য এক সুযোগ নষ্ট করেন, তবে হতাশা পাশ কাটিয়ে অবশেষে ২৩ মিনিটেই গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুসের শট হাইতি গোলরক্ষক জনি প্লাসিড ঠেকালেও ফিরতি বলে (রিবউন্ড) লক্ষ্যভেদ করেন মাতেউস কুনহা।
এরপর ৩৬ মিনিটে ব্রাজিলের লিড দ্বিগুণ করেন কুনহা। মাঝমাঠ থেকে দারুণ এক মুভ শুরু করে কুনিয়া‘কে ডিফেন্সচেরা থ্রু পাস দেন ভিনিসিয়ুস। সেখান থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কুনিয়া।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের ৩য় মিনিটে হাইতি গোলকিপার জনি প্লাসিডকে একা পেয়ে তাঁর দু–পায়ের ফাঁক দিয়ে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে গোল করেন ভিনিসিয়ুস। ফলে ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
এর আগে, প্রথমার্ধের ৪০তম মিনিটে চোটে পড়েন রাফিনিয়া। তাঁর বদলি হিসেবে নামেনতরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। রাফিনিয়ার চোট কতটা গুরুতর, তা তাৎক্ষণিকভাবে খালি চোখে বোঝা না গেলেও ব্রাজিলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এক্সক্লুসিভ ফুটেজ এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৮তম মিনিটে মার্তিনেল্লির একটি শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। এর আগে ৬৪তম মিনিটে লুকাস পাকেতার বদলি হিসেবে নামার মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় আগুনে শটে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এই আর্সেনাল উইঙ্গার।
৭৭তম মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথমবার মাঠে নেমেই জাল কাঁপিয়েছিলেন এনদ্রিক। ডিফেন্সচেরা এক ক্রস কাজে লাগিয়ে হাইতি গোলকিপারের দু–পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, অফসাইডের কারণে রেফারির বাঁশিতে মলিন হয়ে যায় তাঁর গোল উদযাপনের হাসি।
ম্যাচের যোগ করা সময়েও গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গোলবঞ্চিত হয় ব্রাজিল। ফলে শেষ পর্যন্ত ৩–০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সেলসাও বাহিনী।
ব্রাজিল দলে আজ দুটি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ। ইবানিয়েজ ও ইগর থিয়াগোর পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া দানিলো ও মাতেউস কুনহা নিজেদের প্রমাণ করেছেন চমৎকারভাবে।
এই জয়ে দুই ম্যাচ শেষে মরক্কোর সমান ৪ পয়েন্ট পেলেও গোলব্যবধানে (+৩) এগিয়ে থেকে গ্রুপ সি–এর শীর্ষে উঠলো ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডকে আগের ম্যাচে ১–০ গোলে হারানোর পর মরক্কো (+১) শীর্ষে উঠলেও ব্রাজিলের জয়ে নেমে গেছে ২ নম্বরে। হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা স্কটিশরা ৩ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।
এসএ