রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সিলেট-সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবনের আশঙ্কা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজানে আগামী এক সপ্তাহে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তরপূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজানে আগামী এক সপ্তাহে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উত্তরপূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

রবিবার (১৪ জুন) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (বাপাউবো) এক বিশেষ বুলেটিনে ১৪ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সময়কালের জন্য এই পূর্বাভাস জারি করেছে।

বুলেটিনে জানানো হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, আগামী ২১ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় প্রদেশে সামগ্রিকভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

গত এক সপ্তাহেও এসব এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭ দিনে স্থানভেদে সর্বোচ্চ ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ক্রমান্বয়ী বৃষ্টিপাত (Cumulated Rainfall) সংঘটিত হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, বিগত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসমূহের পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৭ দিনে এই অববাহিকায় পানি অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এই সময়ে নদীগুলোর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমা ছুঁয়ে বা তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু এলাকা সাময়িকভাবে জলমগ্ন বা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি হ্রাস পেলেও দুধকুমার নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী ৭ দিনে এই অঞ্চলের নদীগুলোর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অপরদিকে, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, কংস, মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানির সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে ভুগাই নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আগামী ১ সপ্তাহ এই অববাহিকার সবগুলো নদীর পানি সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

ব্রহ্মপুত্রযমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে এবং আগামী ১ দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে পরবর্তী ৯ দিন এই অববাহিকায় পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

অপরদিকে, গঙ্গাপদ্মা অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৫ দিন গঙ্গা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী ৫ দিন তা বাড়বে। পদ্মা নদীর পানি আগামী ১০ দিন জুড়েই বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

তবে স্বস্তির খবর হলো, এই বড় নদীগুলোর পানি সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে।

 

এসএ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More