কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ভয়াবহ নদীভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অলওয়েদার সড়ক। ভাঙনের তোড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সড়ক, ফসলি জমি ও বিদ্যুতের খুঁটি। ঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের গ্রামও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ ঘটনায় এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে চলছে দায় এড়ানোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।
উপজেলার বাঙ্গালপাড়া থেকে নোয়াগাঁও পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি হাওরাঞ্চলের মানুষের সারাবছরের চলাচলের একমাত্র অলওয়েদার সড়ক। প্রায় সাত বছর আগে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ চলছিল। কিন্তু কাজ চলমান অবস্থাতেই ভয়াবহ নদীভাঙনে প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সড়কের শেষ প্রান্তে মেঘনা নদীর ওপর প্রায় ১৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এক হাজার মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণাধীন রয়েছে। সেতুটি চালু হলে অষ্টগ্রামের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের কথা ছিল। তবে নদীভাঙনের কারণে সেই সম্ভাবনাও এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
এদিকে ভাঙনের কারণে ফসলি জমি ও বিদ্যুতের খুঁটিও নদীগর্ভে চলে গেছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন দুই গ্রামের মানুষ।
টানা পাঁচদিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে। কোনো প্রসূতি রোগী বা গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এবারের মতো ভয়াবহ ভাঙন আগে দেখেননি বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, নদীর মুখ ড্রেজিং করে কেটে দিলে সড়ক ও আশপাশের গ্রাম রক্ষা করা সম্ভব। একই সঙ্গে তারা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর এলজিইডি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়।
অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, ভাঙন শুরুর পর থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজাদ হোসেন দাবি করেন, ৭ মে’র আগে তারা এ বিষয়ে কোনো লিখিত বা মৌখিক তথ্য পাননি। আগে থেকে অবগত করা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হতো বলেও জানান তিনি।
মশিউর রহমান/এজে/দীপ্ত সংবাদ