শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁর আম বাগানের পাহারাদার ‘লালু-কালু’ নামের দুটি কুকুর

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

এক সময় আম চাষ ছিলো বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রধান ফসল কিন্তু দিন দিন আম চাষ নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলাতে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যেই আমের বাণিজ্যি রাজধানী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে উত্তরের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁ। বিশাল আমের বাগান। চারদিকে গাছে গাছে ঝুলছে নানা জাতের বিদেশী রঙিন আম আর বারি৪।

প্রায় ১০ বিঘা জমির এই বিশাল মিশ্র আম বাগান পাহারায় কোনো মানুষ নয়, বরং দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত রয়েছে দেশী জাতের দুটি বিশ্বস্ত কুকুর। নাম তাদের ‘লালু’ আর ‘কালু’। নওগাঁ পৌর এলাকার আনন্দনগর বাগবাড়ি এলাকায় এক পা হারানো ‘লালু’ ও তার সঙ্গী ‘কালু’র এমন রাজকীয় বিশ্বস্ততা ও সাহসিকতা এখন পুরো এলাকায় অনন্য দৃষ্টান্তর তৈরি করেছে।

বাগান মালিক আব্দুল আলিম জানান, শৈশবে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে পরম যত্নে এই ছানা দুটিকে তিনি নিয়ে এসেছিলেন। সময়ের সাথে সাথে তারা হয়ে উঠেছে পরিবারেরই অংশ। এক দুর্ঘটনায় লালু এক পা হারালেও বাগান রক্ষায় তার সাহসিকতায় কমতি নেই একটুও। একটি লালসাদা রঙের লালু, অন্যটি কালোসাদা কালু। ১০ বিঘা জমির এই আম বাগানে কাজ করার জন্য কর্মচারী থাকলেও, পাহারাদার হিসেবে এই দুই চতুষ্পদ প্রাণীর ওপরই শতভাগ ভরসা বাগান মালিকের।

আব্দুল আলিম আর বলেন,শুধু বাগান পাহারা নয়, আলিমের মেয়ের সঙ্গী হয়ে তাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া কিংবা বিকেলে খেলাধুলা সবখানেই আছে এই দুই বিশ্বস্ত সঙ্গী। লালু আর কালু থাকায় পাহারাদারের বাড়তি কোনো খরচই লাগছে না। বিশাল এই বাগানে পাহারাদারের পেছনে যে বেতন দিতে হতো, তা বেঁচে যাচ্ছে। শুধু পাহারাই নয়, পরিবারের সদস্যরা যা খান, লালুকালুর পাতেও জোটে সেই একই খাবার। এদের হিংস্রতা কমাতে মাঝে মাঝে সেদ্ধ মাংস দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত টিকাসহ সব ধরণের যত্নও নেওয়া হয় তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাগানে ঢুকতে গেলে আগে এই কুকুর দুটির বাধার মুখে পড়তে হয়। পরিবারের কেউ আসলে তারপরই কেবল ভেতরে ঢোকা যায়। চতুষ্পদ এই প্রাণীর এমন রাজকীয় বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ প্রতিবেশীরাও।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি অফিসার ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, একসময় কুকুর পালন শহরকেন্দ্রিক ও শৌখিনতার বিষয় হলেও, এখন গ্রামীণ অর্থনীতি ও সুরক্ষায় মানুষ কুকুর পালন করছে। বাৎসরিক জলাতঙ্ক টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিলে এদের মাধ্যমে মানুষের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। যত্ন নিলে এগুলো মানুষের জন্য শতভাগ নিরাপদ ও উপকারী। সঠিক যত্ন আর ভালোবাসা পেলে হিংস্র প্রাণীও যে মানুষের পরম বন্ধু এবং বিশ্বস্ত পাহারাদার হয়ে উঠতে পারে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নওগাঁর এই ‘লালু’ আর ‘কালু’।

রউফ রিপন

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More