গ্রীষ্মের তীব্র গরমে বড়দের চেয়ে ছোটদের কষ্ট হয় সবচেয়ে বেশি। শিশুরা অনেক সময় তাদের অস্বস্তির কথা মুখে বলতে পারে না, ফলে তাদের মধ্যে খিটখিটে স্বভাব দেখা যায় বা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে, দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কিছু অভ্যাসের দিকে নজর দিলেই এই গরমে শিশুদের সুস্থ ও ফুরফুরে রাখা সম্ভব।
নিচে একদম সাধারণ ও সহজ কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো যা প্রতিটি পরিবারেই মেনে চলা দরকার:
১. পানি ও তরল খাবার দিন— গরমে শরীর থেকে পানি বের হয়ে শিশু যেন ক্লান্ত না হয়ে পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
* শিশুকে বারবার খাবার পানি পানের কথা মনে করিয়ে দিন। শিশুরা খেলার ছলে অনেক সময় পানি খেতে ভুলে যায়।
* ঘরের তৈরি সাধারণ লেবুর শরবত, ডাবের পানি বা ঘরে পাতা দইয়ের লাচ্ছি দেওয়া যেতে পারে।
* এই সময়ে বাইরের খোলা জায়গার শরবত, বরফ বা রঙিন আইসক্রিম খাওয়ানো থেকে শিশুকে বিরত রাখুন।
২. পোশাকের দিকে নজর দিন— গরমের দিনে শিশুর আরামের জন্য পোশাকের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
* শিশুকে সবসময় হালকা রঙের এবং ঢিলেঢালা সুতি কাপড় পরিয়ে রাখুন। গাঢ় রঙের বা সিন্থেটিক কাপড় গরমে আরও বেশি অস্বস্তি বাড়ায়।
* ঘরে থাকার সময় একদম হালকা পোশাক পরালে শিশুর শরীর সহজে বাতাস পায়।
* একটানা দীর্ঘক্ষণ ডায়াপার পরিয়ে রাখবেন না, এতে র্যাশ বা চুলকানি হতে পারে।
৩. ঘর ঠান্ডা রাখুন
* ঘরের জানালা খুলে দিন যাতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।
* দুপুরের কড়া রোদ যেন সরাসরি ঘরে না ঢোকে, সেজন্য হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করতে পারেন।
* মেঝেতে কার্পেট বা চট থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন, এতে ঘর কিছুটা ঠান্ডা থাকে। প্রতিদিন অন্তত একবার ঘরের মেঝে সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নিলে ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে।
৪. পরিচ্ছন্নতা ও গোসল
* শিশুকে প্রতিদিন স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে নিয়মিত গোসল করান। পানি যেন খুব ঠান্ডা বা খুব গরম না হয়।
* শিশু বাইরে থেকে খেলে বা দৌড়াদৌড়ি করে আসলে সাথে সাথে ভেজা সুতি কাপড় বা গামছা দিয়ে তার ঘাম মুছে দিন। ঘাম গায়ে বসলে দ্রুত ঠান্ডা–কাশি লেগে যেতে পারে।
* গরমে শিশুর ত্বকে অতিরিক্ত পাউডার বা ভারী লোশন মাখানো বন্ধ রাখুন, কারণ এতে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে ঘামাচি বেশি হয়।
৫. খাবারে নজর দিন
* গরমে ভারী বা অতিরিক্ত তেল–মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
* নরম ভাত, পাতলা ডাল, সবজি দিয়ে হালকা খিচুড়ি বা তরকারি এই সময়ের জন্য সবচেয়ে ভালো।
* খাবার যেন সবসময় টাটকা বা ফ্রেশ হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তাই বাসি খাবার শিশুকে একদমই দেবেন না।
৬. রোদে ঘোরাঘুরি বন্ধ রাখুন:
* দুপুরের কড়া রোদে (বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত) শিশুকে কোনোভাবেই বাইরে খেলতে বা ঘুরতে যেতে দেবেন না।
* বিকেলে রোদ পড়ে গেলে বা আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হলে তাকে ঘরের বাইরে যেতে দিন।
এই গরমে শিশুকে সুস্থ রাখতে বাড়তি কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। কেবল তাকে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখা, সুতি কাপড় পরানো এবং পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খাওয়ানো—এই সাধারণ বিষয়গুলো মেনে চললেই শিশুরা সতেজ থাকবে।
মাসউদ/এসএ