মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজের পর ভুট্টা খেতে থেকে আতিকা আক্তার (৭) নামে এক শিশুর হাত–পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে ২ ভাই নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরওয়ার আলম।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু আতিকা আক্তার দক্ষিণপাড়া গ্রামে‘র দুদুল মিয়ার কন্যা।
গণপিটুনিতে নিহত ২ জন হলেন— বনপারিল গ্রামের ইজিবাইকচালক পান্নু মিয়া (৪৫) ও তার ভাই ফজলু মিয়া (২৮)। এ ঘটনায় পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুল (২০) গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে দুদল মিয়ার প্রতিবেশীর বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে তার মেয়ে শিশু আতিকা আক্তার (৭) খেলাধুলা করছিল। কিছু সময় পর তার খোঁজ না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেয়া হয় এবং এলাকায় মাইকিং করে খোঁজাখুঁজি চালানো হয়।
একপর্যায়ে আতিকার চাচাতো ভাই আলী (৬) জানায়, সে আতিকাকে প্রতিবেশী কিশোর নাঈমের (১৫) সঙ্গে যেতে দেখেছে।
পরে সন্দেহভাজন নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতের কথা বলে। পরে ওই ক্ষেত থেকে হাত–পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ভিড়ের মধ্যে নাঈম পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জড়িত সন্দেহে উত্তেজিত জনতা নাঈমের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং নাঈমের বাবা পান্নু, ভাই নাজমুল, চাচা ফজলু রহমান বাবুকে ধাওয়া করে গণধোলাই দেয়।
এতে অটোচালক পান্নু মিয়া (৩৮) ও তার ভাই ফজলু (২৮) নিহত হন এবং গুরুতর অবস্থায় পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুলকে (২০) মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
এসএ