ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। দেশে থাকে এক ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটা করতে বেরিয়ে তারা এই মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হন।
নিহত চার সহোদর হলেন— মো. রাসেদুল ইসলাম, মো. শাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজুল ইসলাম ও মো. শহিদুল ইসলাম। তারা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বন্দেরাজার পাড়া এলাকার মৃত মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছোট দুই ভাই সিরাজ ও শহিদের বুধবার (১৩ মে) রাতে ওমান থেকে দেশে ফেরার কথা ছিল। তাদের টিকিটও কাটা হয়েছিল। দেশে এসে তাদের বিয়ে করার কথা ছিল। বাড়িতে থাকা অন্য এক ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটা এবং নিজেদের জন্য শপিং করতে মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে চার ভাই মিলে প্রাইভেটকারে করে বের হন। বুধবার (১৩ মে) সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা গাড়ির ভেতর চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মৃত ঘোষণা করে মরদেহ উদ্ধার করে।
বর্তমানে মরদেহগুলো ওমানের রুস্তাক থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো মাস্কাটে নেয়া হবে এবং সেখান থেকে দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে। ওমান পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ওমান প্রবাসী আবু তৈয়ব ও মাহমুদুর রশিদ মাসুদ জানান, পার্কিংয়ে গাড়িটি চালু অবস্থায় থাকাকালীন এসির গ্যাস বিস্ফোরণ হয়ে চার ভাই কারের ভেতরেই প্রাণ হারান। বুধবার সকালে পুলিশ কারের ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতদের বেঁচে থাকা একমাত্র ভাই মো. এনাম জানান, বড় ভাই মো. রাশেদ বিবাহিত এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় ভাই মো. শাহেদও বিবাহিত ছিলেন। ছোট দুই ভাই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একসাথে চার ছেলেকে হারিয়ে মা এবং বড় দুজনের স্ত্রী–সন্তানরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
একসঙ্গে চার সন্তানকে হারিয়ে রাঙ্গুনিয়ার লালানগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও আত্মীয়–স্বজনের কান্নায় এলাকার আকাশ–বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।