চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতা দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় মুখোমুখি হন। আলোচনার শুরুতেই শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প।
বৈঠকের শুরুতে চীনের পক্ষ থেকে দেয়া রাজকীয় অভ্যর্থনার জন্য শি জিনপিংকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, “এটি ছিল এমন এক সম্মান, যা খুব কম মানুষই কখনও পেয়েছে। বিশেষ করে আমি শিশুদের দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তারা ছিল আনন্দিত ও সুন্দর। সামরিক আয়োজন তো ছিলই, তবে শিশুরা ছিল অসাধারণ।”
চীনের প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আপনি একজন মহান নেতা। আমি সবাইকেই এটা বলি। অনেক সময় মানুষ আমার এই বক্তব্য পছন্দ করে না; কিন্তু আমি তবুও বলি, কারণ এটা সত্য। আমি শুধু সত্যটাই বলি।”
বৈঠকে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তার সঙ্গে আসা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের সঙ্গে বিশ্বের সেরা ব্যবসায়ীরা এসেছেন। আমরা বিশ্বের শীর্ষ ৩০ জনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম এবং প্রত্যেকেই রাজি হয়েছেন। তারা এখানে এসেছেন আপনাকে এবং চীনকে সম্মান জানাতে। তারা বাণিজ্য ও ব্যবসা করতে আগ্রহী এবং এটি হবে পুরোপুরি পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে।”
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৩ মে) থেকে শুরু হওয়া ট্রাম্পের এই তিন দিনের সফরটি শুক্রবার (১৫ মে) শেষ হবে। ২০১৭ সালের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম চীন সফর। মূলত এপ্রিলে সফরটি হওয়ার কথা থাকলেও ইরান পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে মে মাসে নির্ধারিত হয়।
এর আগে গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে দুই নেতার বৈঠকে চলমান শুল্কযুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছিল দুই দেশ। এবারের আলোচনায় চীনের বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিয়ন্ত্রণ শিথিল রাখা, বিমান, কৃষি ও জ্বালানি খাতে নতুন চুক্তি এবং ইরান ইস্যুসহ ভূ–রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।