আর্জেন্টিনা এবার যদি শিরোপা ধরে রাখতে না–ও পারে, তবু এ পর্যন্ত আসাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
তবে সেমিফাইনালে উঠলেও আর্জেন্টিনার খেলা অনেক সমর্থকের মন ভরাতে পারেনি। তাঁরা মনে করছেন, আর্জেন্টিনা মাঠে সেরাটা দিতে পারছে না।
২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’–তে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ওঠে আর্জেন্টিনা। এরপর কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডকে বিদায় করে দলটি এখন সেমিফাইনালে। এর মধ্যে শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দে ও কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে হয়েছিল।
এমনকি শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২–০ ব্যবধানে পিছিয়েও ছিল দলটি। আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে সমর্থকদের অতৃপ্তি এ কারণেই।
বিষয়টি নিয়ে আটলান্টায় সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘মানুষ যতটা খারাপ বলছে, দল ততটা খারাপ খেলছে না। এ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য আমরা নিশ্চয়ই মাঠে সঠিক কিছু করেছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা দলকে তিনটি শিরোপা এবং এখন আরেকটি সেমিফাইনালে নিয়ে এসেছে। আমরা লক্ষ্য থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে আছি এবং সেখানে পৌঁছাতে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেব।’
স্কালোনি বলেন, ‘আমি যেভাবে চেয়েছিলাম, দল ঠিক সেভাবে খেলছে কি না, তা নিয়ে ভাবি না। কারণ, দেড় মাস আগে যেকোনো উপায়ে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকলে লুফে নিতাম। এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোনো অভিযোগ নেই।’
আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ডের লড়াই নিয়ে যে রাজনৈতিক উত্তাপ, তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠেছে। এসেছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বিরোধের প্রসঙ্গ।
স্কালোনি জানান, দল শুধু খেলার মাঠেই মনোযোগ দেবে। দুই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে তারা খেলার সঙ্গে মেশাবে না, ‘বাস্তবতা হলো এটি একটি ফুটবল ম্যাচ মাত্র।’
আর্জেন্টিনা সর্বশেষ চার বিশ্বকাপের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বার সেমিফাইনাল খেলছে। এর মধ্যে ট্রফি এসেছে ২০২২ সালে। পাশাপাশি ২০২১ ও ২০২৪ সালে মহাদেশীয় শিরোপা কোপা আমেরিকাও জিতেছে তারা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে শুরু হবে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল।
এসএ