নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বোয়ালি গ্রামে বোরো ধান কাটা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা–৪ (মোহনগঞ্জ–মদন–খালিয়াজুরী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে বোয়ালি গ্রামের বিস্তৃত হাওরে যখন ধান কাটার উদ্বোধন করা হয়। সেসময়ে কৃষকদের চোখেমুখে ছিল ফসল ঘরে তোলার আনন্দ।
এ সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে স্থানীয় প্রশাসন এবং নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
সরেজমিনে দেখা যায়, লুৎফুজ্জামান বাবর অত্যাধুনিক কম্বাইন হারভেস্টারে বসে চালকের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ধান কাটায় অংশ নিচ্ছেন। কৃষকদের উৎসাহিত করতে এ সময় ‘কৃষকের ধান কাটা’ লেখা হলুদ টি–শার্ট পরিহিত স্বেচ্ছাসেবক ও দলীয় নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিক সংকটের সময়ে আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার হাওরের ধান দ্রুত ঘরে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
উদ্বোধন শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন লুৎফুজ্জামান বাবর। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ১০–১৫ দিনের মধ্যেই ইনশাআল্লাহ ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। অতিবৃষ্টির কারণে পানি ঢুকে পড়লে তা পাম্পের মাধ্যমে বের করে দেওয়ার জন্য প্রশাসন কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। সেচ ও পানি নিষ্কাশনের পাম্পগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ডিজেল ও পেট্রোলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
কৃষকরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ধান ঘরে তুলতে পারে, সেজন্য নিজ দলের নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক মাঠে থাকার নির্দেশ দেন বাবর। তিনি বলেন, বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধান কাটার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে কৃষক ভাইদের সাথে কাজ করবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত ধান কাটা শেষ না হবে, ততক্ষণ এই কাজ চলবে।
একইসঙ্গে প্রশাসনকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালন করবে, যাতে সমস্ত ধান নির্বিঘ্নে কেটে আল্লাহর রহমতে কৃষকরা তাদের ঘরে নিতে পারে; সেটা আমাদের দায়িত্ব।
খালিয়াজুরীতে ধান কাটার উদ্বোধন শেষে আগামীকাল রবিবার মদন উপজেলায় অনুরূপ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা জানান লুৎফুজ্জামান বাবর।
শেষে তিনি হাওরের কৃষকদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় মহান আল্লাহর রহমত কামনা করেন এবং উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। এ সময় বিপুল সংখ্যক স্থানীয় কৃষক, দলীয় নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ফয়সাল চৌধুরী/এজে/দীপ্ত সংবাদ