বুধবার (১২ আগস্ট) ঘটতে যাচ্ছে বছরের অন্যতম আলোচিত মহাজাগতিক ঘটনা—পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। দিনের বেলায় কয়েক মিনিটের জন্য সূর্যের আলো ঢেকে গিয়ে অন্ধকার নেমে আসবে উত্তর আটলান্টিক ও ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। তবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ এলাকা থেকে সরাসরি এ দৃশ্য দেখা যাবে না।
চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো পুরোপুরি আটকে দেয়, তখন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে। এ সময় সূর্যের চাকতি সম্পূর্ণ আড়াল হয়ে আকাশ ভোর বা গোধূলির মতো অন্ধকার হয়ে যায়।
যেসব অঞ্চল থেকে দেখা যাবে
আগামী ১২ আগস্ট উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেন ও পর্তুগালের কিছু অংশ থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে উত্তর রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুপুরের দিকে পূর্ণগ্রাস শুরু হবে। এরপর গ্রহণের ছায়া পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ইউরোপের দিকে যাবে।
পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব হবে আড়াই মিনিটেরও কম।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাংশ, কানাডা, উত্তর–পশ্চিম আফ্রিকা এবং ইউরোপের কিছু অংশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। কোনো কোনো এলাকায় সূর্যের ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে।
বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে?
বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল থেকে এবারের সূর্যগ্রহণ সরাসরি দেখা যাবে না। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে গ্রহণ শুরু হবে। তখন বাংলাদেশে সূর্য দিগন্তের নিচে থাকবে।
তবে অনলাইনে নাসার ওয়েবসাইটের লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে গ্রহণটি দেখা যাবে।
কেন বিশেষ এবারের গ্রহণ?
এই সূর্যগ্রহণের আরেকটি বিশেষত্ব হলো, একই রাতে পারসেইড উল্কাবৃষ্টি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা। অমাবস্যার কারণে আকাশ তুলনামূলক অন্ধকার থাকায় উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্যও অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে।
ইউরোপের জন্যও এটি বিশেষ ঘটনা। দীর্ঘ ২৬ বছর পর ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
চোখের সুরক্ষায় সতর্কতা
গ্রহণ দেখার সময় খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না। গ্রহণ দৃশ্যমান এলাকায় দর্শকদের ISO 12312-2 মানসম্পন্ন সৌর–পর্যবেক্ষণ চশমা বা উপযুক্ত সোলার ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস সূর্যের তীব্র আলো থেকে চোখকে নিরাপদ রাখে না।