হাম একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। সঠিক সময়ে সঠিক যত্ন না নিলে এটি শিশুর জন্য নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘরেই শিশুর উপযুক্ত পরিচর্যা করা সম্ভব। শিশুদের হাম হলে যেভাবে যত্ন নেবেন:
১. সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও আলাদা রাখা:
হাম অত্যন্ত সংক্রামক বলে আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখা উচিত। শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে এবং ঘর যেন খোলামেলা ও বাতাস চলাচলের উপযোগী থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
২. পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার:
জ্বরের কারণে শিশুর শরীর পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে। তাই শিশুকে বারবার পানি, ডাবের পানি, তাজা ফলের রস, স্যুপ এবং বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে। শিশু যদি শক্ত খাবার খেতে না চায়, তবে তাকে নরম ও সহজে হজম হয় এমন খাবার অল্প অল্প করে বারবার দিন।
৩. জ্বর ও ব্যথার উপশম:
হামে সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রা থাকে। জ্বর কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় প্যারাসিটামল সেবন করানো যেতে পারে। এছাড়া কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিলে শিশু আরাম পায়। তবে মনে রাখবেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই এসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।
৪. চোখের যত্ন:
হামের সময় অনেক শিশুর চোখ লাল হয়ে যায় বা পুঁজ জমে। এ ক্ষেত্রে পরিষ্কার তুলা বা নরম কাপড় হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে আলতো করে চোখ মুছে দিতে হবে। ঘরের আলো কিছুটা কমিয়ে রাখলে শিশুর চোখের অস্বস্তি কম হয়।
৫. ত্বকের পরিচর্যা:
শরীরে র্যাশ বা গুটি বের হলে চুলকানি হতে পারে। নখ দিয়ে চুলকালে সেখানে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই শিশুর নখ ছোট রাখতে হবে। চুলকানি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।
৬. ভিটামিন–এ এর গুরুত্ব:
হাম হলে শিশুর শরীরে ভিটামিন–এ এর অভাব দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা থেকে চোখের সমস্যা হতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে শিশুকে ভিটামিন–এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।
* সচেতন থাকুন, আতঙ্কিত হবেন না। হামের ঝুঁকি কমাতে শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলেই টিকা নিশ্চিত করুন।
লেখক: নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (নবজাতক),
ডা. এম আর খান শিশু হাসপাতাল এন্ড ইনস্টিটিউট, মিরপুর, ঢাকা।