শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২৬
শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে ৯ জেলেসহ ১৬ জন নিখোঁজ

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

লক্ষ্মীপুরে ৯ জেলেসহ ১৬ জন নিখোঁজগভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগতির ৯ জেলেসহ ১৬ বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজের ১৩ দিনও খোঁজ নেই তাদের।

ফলে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের দাবি, কক্সবাজারের উখিয়া সংলগ্ন বাংলাদেশমিয়ানমার জলসীমা থেকে তাদের মিয়ানমার কোস্টগার্ড আটক করে নিয়ে গেছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় চরম অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে উপকূলীয় জেলে পল্লীর পরিবারগুলোর।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন মো. জুয়েল, ফরহাদ হোসেন, মো. নীরব, মো. রাকিব হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, মো. মেজবাহ উদ্দিন, মো. তাহমীদ, মো. তামজিদ, মো. লিটন, মো. অজি উল্যাহ। এছাড়া বাকি ছয়জন হলেন নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মো. শাহজাহান, মো. সোহাগ এবং জাবের হোসেন, চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর মো. কামাল হোসেন, মহেশখালীর তারেক রহমান ও ভোলার দৌলতখানের মো. সাইমুন।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরপোড়াগাছা ইউনিয়নের ৯ জন, নোয়াখালীর ৩ জন, চট্টগ্রামের

৩ জন এবং ভোলার ১ জনসহ ১৬ জেলে গত ২২ মার্চ ‘মাবাবার দোয়া’ নামের একটি ট্রলার নিয়ে মেঘনা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর ৬ দিন পর গত ২৮ মার্চ পরিবারের সাথে জেলেদের শেষবার মুঠোফোনে কথা হয়। তখন জেলেরা জানিয়েছিলেন, তারা মিয়ানমার কোস্টগার্ডের হাতে আটক হয়েছেন।

সেখানে তারা চরম খাদ্য সংকট ও অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। এরপর থেকেই তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কোনোভাবেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রামগতির চরপোড়াগাছা জেলে পল্লীতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। নিখোঁজ জেলেদের ফিরে আসার অপেক্ষায় নদীর তীরে পথ চেয়ে আছেন তাদের বৃদ্ধ বাবামা, স্ত্রী ও সন্তানরা। কারো হাতে সন্তানের ছবি, কেউবা স্বামীর স্মৃতি মনে করে বিলাপ করছেন। একেকটি পরিবারের ৫ থেকে ৭ জন সদস্য এই জেলেদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। উপার্জনক্ষম মানুষগুলো নিখোঁজ থাকায় অনেক পরিবারে এখন চুলা জ্বলছে না। পেটের ক্ষুধার চেয়েও প্রিয়জনের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি শঙ্কিত তারা।

নিখোঁজ জেলে মো. অজি উল্যাহ্র ভাই জাকির হোসেন বাসস’কে বলেছেন, ২২ মার্চ মাছ শিকারে গিয়ে অন্য জেলেরাসহ অজিউল্যাহ নিখোঁজ । এরপর থেকে ২৮ মার্চ পরিবারের সাথে শেষবার মুঠোফোনে তার কথা হয়।

তখন সে জানায়, মিয়ানমার কোস্টগার্ডের হাতে আটক হয়েছেন সবাই। তার উপার্জনেই চলত পুরো পরিবার।

ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে যেন সবকিছু থমকে গেছে।

ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান জানান নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। জেলেদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয় সমাজকর্মী মো. রাসেল উদ্দিন জানান, তিনি ট্রলার মালিক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। জেলেদের দ্রুত ফিরিয়ে আনতে আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খিসা বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি।

নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।’ আটক জেলেদের ভাগ্যে কী জুটেছে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। প্রিয়জনদের সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন স্বজনরা।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More