শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলা, শিক্ষক ও শিশুসহ নিহত ৫ দর্শনা সীমান্ত দিয়ে দেশে আসছে ১৮টি আধুনিক রেলকোচ ড. ইউনূসকে ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন ৪০০ অতিথি শনিবার ব্যাংক খোলা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২২ মণ্ডপে দুই হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন বিমানবন্দরে ২০ হামলায় নিহত ১৯, আহত ৩৬৪ : সৌদি জোট সীমান্ত থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট না থাকলে ব্যবস্থা, সময় বেঁধে দিল কর্তৃপক্ষ দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার
দীপ্ত নিউজ
অন্যান্য

মতিউর ও তার পরিবারের ১১৬ ব্যাংক হিসাব জব্দ

দীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দীপ্ত নিউজ ডেস্কপ্রকাশ :
মতিউর ও তার পরিবারের ১১৬ ব্যাংক হিসাব জব্দ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার পরিবারের ১১৬টি ব্যাংক হিসাব, ২৩ টি বিও একাউন্ট ও সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা উপ–পরিচালক আনোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) মতিউর ও তার পরিবারের এসব স্থাবর ও আস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।

ক্রোক হওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে– সভারে ২৬.৬১ শতাংশ জমি, ভালুকায় ১০৪ শতাংশ জমি, ভালুকায় মতিউরের ভাই এ এম কাইউম হাওলাদারের মালিকানাধীন ৯৫৮ শতাংশ জমি, গাজীপুরে আপন ভুবন লিমিটেড এর ৮৭৫.৯৫ শতাংশ জমি, নরসিংদীর শিবপুরে মতিউরের স্ত্রী লায়লার নামে ৩৮ শতাংশ জমি, ছেলে অর্ণবের নামে ১২৬ শতাংশ জমি, মেয়ে ইপ্সিতার নামে ৭২ শতাংশ জমি, নাটোরের সিংড়ায় লায়লা কানিজের নামে ১৬৬ শতাংশ জমি।

এছাড়া মিরপুরের শেলটেক বিথীকা প্রকল্পে ১৮১২ স্কয়ার ফুটের ৪টি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

স্থাবর সম্পত্তি ছাড়াও শেয়ার বাজারে তাদের ২৩টি বিও অ্যাকাউন্ট, ১১৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭১ টাকা ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, মতিউর রহমান দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নিজ নামে বা অন্যান্য ব্যক্তির নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ হুন্ডি ও আন্ডারইনভয়েসিং/ওভারইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার করে শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে।

অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন যা করতে পারলে অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় মামলা দায়ের, আদালতে চার্জশিট দাখিল, আদালত কর্তৃক বিচার শেষে সাজার অংশ হিসেবে অপরাধলব্ধ আয় হতে অর্জিত সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্তকরণসহ সকল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। তাই অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়ের ও তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিলের পর আদালত কর্তৃক বিচার শেষে সরকারের অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুবিধার্থে সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এসব স্থাবর সম্পত্তিসমূহ ক্রোক ও অস্থাবর সম্পত্তিসমূহ অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।

এর আগে গত ২ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো পৃথক চিঠিতে মতিউর রহমানসহ তার দুই স্ত্রী ও দুই সন্তানের সম্পদের বিবরণ জমা দিতে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে সম্পদ বিবরণী দাখিলে ব্যর্থ হলে কিংবা মিথ্যা সম্পদ বিবরণী দাখিল করলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মতিউর রহমানের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য অনুসন্ধানে গত ২৩ জুন তিন সদস্যের টিম গঠন করে দুদক।

সংস্থাটির উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্ব টিম কাজ করছে। গত ৪ জুন তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ জমা হওয়ার পর কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে।

গত ২৪ জুন মতিউর রহমান, তার স্ত্রী লায়লা কানিজ ও ছেলে আহম্মেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

এর আগে গত ৩০ জুন মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের তথ্য চেয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে দুদক।