দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে নরওয়ে। দুর্দান্ত ছন্দে থেকে বাছাইপর্বে শতভাগ জয় নিয়ে টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান দলটি নরওয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রজন্ম।
আর এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে দলটি সম্প্রতি ভাইকিং থিমে একটি ব্যতিক্রমী ফটোসেশন করেছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, ফুটবলাররা প্রাচীন নরওয়েজিয়ান যোদ্ধাদের পোশাক, ঢাল ও অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছেন প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর পটভূমিতে, যা নরওয়ের ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। যেনো জানান দিলো, ভাইকিংদের উত্তরসূরিরা আবারও অভিযানে বেরিয়েছে।
ভাইকিংরা ছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ার (বর্তমান নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক) সমুদ্রযোদ্ধা ও অভিযাত্রী জনগোষ্ঠী। অষ্টম থেকে একাদশ শতাব্দীর মধ্যে তারা ইউরোপ, উত্তর আটলান্টিক এবং এমনকি উত্তর আমেরিকার কিছু অংশেও অভিযান চালিয়েছিল। সাহস, অভিযাত্রিক মনোভাব, সংগ্রাম, দৃঢ়তা এবং অজানাকে জয় করার মানসিকতার জন্য তারা ইতিহাসে বিখ্যাত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলছেন, নরওয়ে যেনো এখনই বিশ্বকাপ মঞ্চকে ভালহাল্লায় রূপ দিয়েছে। Valhalla বা ভালহাল্লা – যার অর্থস্বরূপ এটি হলো সেই মহিমান্বিত হল বা স্থান, যেখানে যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে নিহত যোদ্ধাদের আত্মা স্থান পায়। ফলে ফটোসেশনটি শুধু প্রচারণা নয় বরং সাহস, সম্মান, ঐতিহ্য ও বিজয়ের আকাঙ্ক্ষার এক প্রতীকী প্রকাশ। এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা যেনো পুরো বিশ্বকে ও প্রতিপক্ষদের উদ্দেশ্যে দিয়ে রাখলো এক মনস্তাত্ত্বিক বার্তা, নরওয়ে এবার লড়তে এসেছে।
মাঠের লড়াইয়ে দলটির সবচেয়ে বড় ভরসা ও মূল তারকা আর্লিং হালান্ড। ক্লাব ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়া গোল মেশিন খ্যাত এই তারকার কাছে বাড়তি প্রত্যাশা থাকবে দলটির। তার সঙ্গে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড, আলেক্সান্ডার শর্লথ ও ক্রিস্টোফার আয়ের আছেন দলটির মূল স্তম্ভ হিসেবে। শক্তিশালী এই প্রজন্মকে ঘিরে সমর্থকদের স্বপ্ন, ভাইকিংদের উত্তরসূরিরা এবার বিশ্বকাপেও স্মরণীয় এক অধ্যায় রচনা করবে। তবে তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জও রয়েছে। গ্রুপ ‘আই‘-তে নরওয়ের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে আসরের হট ফেভারিট ফ্রান্স, সেনেগাল এবং ইরাক।
ইমাম/দীপ্ত নিউজ