আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের চিরচেনা ঈদযাত্রা। তবে এবারের ঈদযাত্রার শুরুতেই বাধ সেধেছে প্রকৃতি। তীব্র গরমের পর কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মিললেও, তা ঈদের আনন্দযাত্রায় রূপ নিয়েছে চরম ভোগান্তিতে।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরের বৃষ্টি মাথায় নিয়েই লাখো মানুষকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা গেছে।
গতকাল রবিবার (২৪ মে) ছিল ঈদের আগের শেষ কার্যদিবস। ফলে এদিন বিকাল থেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করে মানুষ। আজ সোমবার থেকে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের আনুষ্ঠানিক ছুটি শুরু হওয়ায় সকাল থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীতে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এই অসময়ের বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রিকশা–অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং গণপরিবহনের অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা।
টার্মিনালগুলোর ভেতরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। অন্যদিকে, বাইরে বৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হয়েছে কাদা ও জলাবদ্ধতা। লাগেজ ও পরিবার–পরিজন নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে অনেককেই বাসে বা ট্রেনে ওঠার জন্য এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে।
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাব বলে বের হলাম। কিন্তু বাস টার্মিনালে আসার পরপরই বৃষ্টি শুরু হলো। রাস্তায় পানি জমে গেছে, বাসেরও দেখা নেই। বাচ্চাদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।‘
বৃষ্টির কারণে মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের গতি কমে গেছে। ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কিছু কিছু পয়েন্টে ধীরগতির কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পশুবাহী ট্রাকের বাড়তি চাপের কারণেও যানচলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে।
বরাবরের মতোই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। বৃষ্টির কারণে স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তবে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে সদরঘাটে। বৃষ্টির কারণে লঞ্চের ডেক যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীপথে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ছুটি বাড়ায় ও শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই আগেভাগে ঢাকা ছাড়ছেন। হাইওয়ে পুলিশ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, বৃষ্টি এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও চলমান রয়েছে।
ভোগান্তি, বৃষ্টি আর যাতায়াতের হাজারো কষ্ট সত্ত্বেও দিনশেষে সবার চোখে–মুখে একটাই আনন্দ— প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা। সব বাধা উপেক্ষা করেই নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ।