শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশে রপ্তানি হয় মানিকগঞ্জের ‘কাঁচা মরিচ’

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

কাঁচা মরিচ চাষের জন্য দেশের সেরা মানিকগঞ্জের মাটি। জেলায় সেরা কাঁচা মরিচ উৎপাদিত হয়। মানিকগঞ্জে উৎপাদিত কাঁচা মরিচ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর, শিবালয় ও ঘিওর উপজেলায় সর্বাধিক কাঁচা মরিচ উৎপাদিত হয়। এই উপজেলাগুলোর মাটি কাঁচা মরিচ চাষের জন্য উপযুক্ত এবং এটি এখানকার চাষিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল।

বর্তমানে জেলায় পুরোদমে কাঁচা মরিচ তোলা চলছে। স্থানীয় বাজারে প্রচুর পরিমাণে কাঁচা মরিচ পাওয়া যাচ্ছে। চাষিরা প্রত্যাশিত উৎপাদন ও ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় খুশি। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৬০৭০ টাকায় এবং পাইকারি দরে ৪৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার চাষিরা তাদের কাঁচা মরিচ বরংগাইল ও উথুলি বাজারে এবং হরিরামপুর উপজেলার চাষিরা ঝিটকা, বল্লা, বাথোইমুড়ি ও সরুপাই বাজারে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। যদিও খরার কারণে গাছের পরিচর্যা ব্যাহত হওয়ায় কাঁচা মরিচ চাষিরা এ বছর সঠিক সময়ে ফসল তুলতে পারেননি। কিন্তু এখন বাজারে প্রচুর পরিমাণে কাঁচা মরিচ পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে যায়, কাঁচা মরিচ তোলার মৌসুমে বহু মানুষ এই মৌসুমি ব্যবসায় নিযুক্ত হন এবং অর্থ উপার্জন করেন। প্রচুর পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা নিয়মিত চাষিদের কাছ থেকে কাঁচা মরিচ সংগ্রহ করতে এলাকায় আসেন। কাঁচা মরিচ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করার জন্য এলাকায় শত শত ট্রাক চলাচল করে। শত শত শ্রমিক, যাদের অধিকাংশই নারী, মাঠ থেকে কাঁচা মরিচ তোলার কাজে নিযুক্ত থাকেন।

বরংগাইল বাজারের মধ্যবয়সি কাঁচা মরিচ ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, প্রতিদিন একদল ব্যবসায়ী স্থানীয় বাজারগুলোতে আসেন এবং দেশের বিভিন্ন অংশে সরবরাহের জন্য আমাদের গুদাম থেকে কাঁচা মরিচ কিনে নিয়ে যায়।

মরিচ চাষি আহমদ আলী জানান, তারা বংশ পরম্পরায় জমিতে কাঁচা মরিচ চাষ করে আসছেন। এতে তাদের বছরের আয়ের বড় অংশ অর্জিত হয়।

বরংগাইল বাজারের আক্কাস আলী ও সোহেল আহমদ জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে মানিকগঞ্জের কাঁচা মরিচ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জের ৩ হাজার ৮ শত ২৫ হেক্টর জমি থেকে ৪২ হাজার ৮ শত ২ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, মানিকগঞ্জ জেলার মাটি, বিশেষ করে হরিরামপুর, শিবালয় ও ঘিওরের মাটি কাঁচা মরিচ চাষের জন্য উপযুক্ত। তিনি আরও বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় মানিকগঞ্জের কাঁচা মরিচের গুণগত মান ভালো এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সূত্র: বাসস।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More