// Script from below please place globally in the ------------------------------------------------------------------------------------- -------------------------------------------------------------------------------------

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ: ৫৪তম হয়েও বাদ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জাহিদ, অনবরত কাঁদছেন মা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন পিরোজপুর জেলার মো. জাহিদ হাসান।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন পিরোজপুর জেলার মো. জাহিদ হাসান। মঠবাড়িয়া উপজেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৩ প্রার্থীর মধ্যে তার মেধাক্রম ছিল ৫৪তম।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জাহিদ মেধাতালিকায় জায়গা পেয়েও নিয়োগপত্র হাতে পাননি। এ খবর শোনার পর জাহিদের মা অনবরত কাঁদছেন। দুঃসংবাদ শুনে স্তব্ধ বৃদ্ধ বাবাও।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার অন্য প্রার্থীরা নিয়োগপত্র হাতে পেলেও জাহিদ তা পাননি। এতে হতাশ তিনি ও তার পরিবার।

জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। এখন ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগ না পাওয়ায় আমি ও আমার পরিবার সদস্যরা হতাশ। খবরটি শোনার পর মা কান্না করেছেন, বাবাও স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। আমাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটি স্পষ্টভাবে জানানো হোক।’

ফেসবুক পোস্টে জাহিদ লিখেন, ‘এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি যখন রেজাল্ট দেয়, তখন আব্বু হসপিটালে। আব্বুকে জানিয়েছিলাম, আব্বু অনেক খুশি হয়েছিল এবং অনেকটা সুস্থ হয়ে গেছিল। কিন্তু এই খবর শোনানোর পর আব্বা দেখছি ভেঙে পড়ছে, মা অনেক কান্না করছে। তাদের এ চাপা কষ্ট দেখে নিজের কাছে অনেক খারাপ লাগতেছে। এ দেশে একটা সরকারি চাকরি পাওয়া যে কি কঠিন হয়ে গেছে, যারা সরকারি জবের প্রিপারেশন নিতেছে, তারাই শুধু বুঝতেছে কি অবস্থা বর্তমানে।

কী কারণে জাহিদকে ভেরিফিকেশনে অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো কারণ জানতে পারেননি।

জাহিদের দাবি, তার কোনো রাজনৈতিক পদ নেই। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটা প্রার্থী হিসেবেও তার সুযোগ ছিল। এরপরও ভেরিফিকেশনে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ভেরিফিকেশনের বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জাহিদ।

এদিকে, নিয়োগপত্র না পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে ফেসবুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ গ্রুপে একটি পোস্টও দেন জাহিদ হাসান। সেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনেকে হতাশা প্রকাশ করেন।

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদ। তার বয়স ২৮ বছর। বাবা আবু জাফর হাওলাদার কৃষক। মা জাহানারা বেগম গৃহিণী। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। তবু পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন জাহিদ। সাপলেজা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। পরে ডক্টর রুস্তম আলী ফরাজী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান জাহিদ হাসান। ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

এদিকে, শুধু জাহিদ হাসান নয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা আদেশে সারাদেশের প্রায় দেড় হাজার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়েছেন। তাদের নামে কোনো নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। কী কারণে তারা বাদ পড়েছেন, সেটাও জানানো হয়নি।

তবে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ–খবর নিয়ে প্রার্থীরা পুলিশ বা গোয়েন্দাদের ভেরিফিকেশনে নেগেটিভ রিপোর্ট থাকায় বাদ পড়েছেন বলে জেনেছেন।

 

এসএ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More