হিমালয়ের হিমবাহ ধসে নেপাল–তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪৭ জনে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকালে নেপাল পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অবশ্য এর কিছুক্ষণ আগে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) ৫৩৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছিল।
এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, এখনো ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি।
নেপালের পর্যটন বোর্ড তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১২১ জন বিদেশীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্যোগের পর নেপাল পুলিশের ৪ হাজার ৪৭৩ সদস্য বর্তমানে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। নদীতীরবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
এদিকে, সীমান্ত পেরিয়ে নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত নদীগুলো থেকে অন্তত ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। মৃতদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ভারতে উদ্ধার হওয়া এই ৭টি মরদেহ এখন পর্যন্ত মূল নিহতের সংখ্যার (৫৫২ জন) মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বুধবার ভূমিধসের পর পানি আটকে উজানে বড় একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়। ওই হ্রদের পানি ভেঙে পড়লে নতুন করে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে, হ্রদটি থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি ধীরে ধীরে কমে আসছে। এর ফলে উদ্ধার অভিযানও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, হ্রদের পানি উপচে পড়ার আশঙ্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ বন্ধ রেখেছিল চীন।
সব মিলিয়ে নেপাল–তিব্বত সীমান্তের এই দুর্যোগে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এসএ