বাংলাদেশে জলবায়ু ন্যায়বিচার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তৃণমূল পর্যায়ের নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে নতুন একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকার হোটেল লেকশোর গ্র্যান্ডে আয়োজিত একটি জাতীয় কর্মশালার মাধ্যমে “জলবায়ু ন্যায়বিচার ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য নাগরিক সমাজের ক্ষমতায়ন” শীর্ষক প্রকল্পটি চালু করা হয়।
এই প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে (ডব্লিউএইচএইচ), এডুকো, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং উত্তরণ। স্থানীয় সংগঠনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, অ্যাডভোকেসি দক্ষতা এবং নেটওয়ার্ক উন্নত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এছাড়া জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত জলবায়ু কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে এটি কাজ করবে।
উদ্বোধনী কর্মশালায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং যুবনেতারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়েল থাঙ্গার হিলফে বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জোনাস ওয়াহল এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। এছাড়া প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন ওয়েলথাঙ্গারহিলফের প্রজেক্ট হেড আফসারি বেগম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের এডউইন কুয়েককোক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সফিউল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ফলাফলের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। এই প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থায়ন করছে। তাদের অব্যাহত সমর্থনের জন্য আমি তাদের প্রশংসা করি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন ফলাফলমুখী ব্যক্তি, যার জলবায়ু ন্যায়বিচার বিষয়ে গভীর আগ্রহ ও শক্তিশালী ফোকাস রয়েছে। আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এমন যেকোনো উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করব।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের এডউইন কুয়েককোক বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবাধিকার প্রচার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদার করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে ইইউ সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আজ আমরা প্রকল্পটি শুরু করছি, যার মাধ্যমে জলবায়ু কার্যক্রম যেন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করে, সে বিষয়ে ইইউর অভিন্ন প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করছি।”
ওয়েল থাঙ্গার হিলফে বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জোনাস ওয়াহল বলেন, “একসঙ্গে কাজ করে, একে অপরের থেকে শিখে এবং যৌথ শক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনব। আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত। প্রকল্পের সাফল্য কেবল কার্যক্রম দিয়ে মাপা যাবে না, বরং অংশীদারিত্ব, একে অপরের প্রতি আস্থা এবং একসঙ্গে অর্জন করা ইতিবাচক পরিবর্তন দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে।”
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “এই প্রকল্পের ফলাফল কোনো একক দাতা, অংশীদার বা অন্য কোনো স্টেকহোল্ডারের পক্ষে একা অর্জন করা সম্ভব নয়। এর জন্য নাগরিক সমাজ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং নাগরিকদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এই প্রকল্পটি তৃতীয় পক্ষের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে সরাসরি ১৮টি তৃণমূল পর্যায়ের নাগরিক সমাজ সংস্থাকে সহায়তা করবে। নির্বাচিত সংগঠনগুলোর মধ্যে নারী–নেতৃত্বাধীন, আদিবাসী, দলিত এবং যুব সংগঠন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই উদ্যোগ তাদের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়া এবং পরিবেশগত সুশাসনে কার্যকরভাবে যুক্ত হতে সাহায্য করবে।
মাসউদ