বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
UPCOMING

FIXTURES

FIFA 2026 24H Window
MATCH -- ROUND -
- - -
VS
- - -
KICK OFF:
Processing...
বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেলা চলাকালে পানি মুখে নিয়েও কেন ফেলে দেন ফুটবলাররা?

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

ম্যাচ চলাকালে একটি দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়ে। হাইড্রেশন ব্রেক বা খেলা থামার ফাঁকে মেসি, রোনালদো কিংবা এমবাপ্পের মতো তারকারা বোতল থেকে পানি মুখে নেন। কিন্তু সেটি গিলে না ফেলে কয়েক সেকেন্ড পর মাঠেই ফেলে দেন। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, তৃষ্ণা পেয়েও কেন ফুটবলাররা পানি গিলে খান না?

এর পেছনে রয়েছে ক্রীড়াবিজ্ঞানের একটি বিশেষ কৌশল, যার নাম কার্বোহাইড্রেট রিন্সিং। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে হওয়া বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতি সাময়িকভাবে ক্লান্তি কমাতে এবং খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

দীর্ঘ সময়ের উচ্চগতির খেলায় অনেক ফুটবলার সাধারণ পানির বদলে কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ বিশেষ পানীয় মুখে নেন। সাধারণত এতে থাকে মল্টোডেক্সট্রিন নামের এক ধরনের সহজপাচ্য শর্করা। এই তরল ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড মুখে রাখলেই মুখের ভেতরের বিশেষ স্নায়ু সক্রিয় হয়ে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে শরীরে শক্তির জোগান আসছে। ফলে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে ক্লান্তির অনুভূতি কমিয়ে দেয় এবং পেশিকে আরও কিছু সময় উচ্চগতিতে কাজ করার নির্দেশ দেয়। অর্থাৎ শরীরে শক্তি না গেলেও মস্তিষ্ক কিছু সময়ের জন্য মনে করে শক্তি চলে এসেছে।

খেলোয়াড়রা বেশির ভাগ সময় পানীয়টি মুখে নিয়ে ফেলে দেন তিনটি কারণে। প্রথমত, তীব্র দৌড়ঝাঁপের সময় বেশি তরল বা চিনিযুক্ত পানীয় পেটে গেলে অস্বস্তি, বমিভাব কিংবা হজমের সমস্যা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, একবারে বেশি পানীয় গিলে ফেললে পেট ভারী লাগে, যা দৌড়ানোর গতি ও স্বস্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তৃতীয়ত, মুখে কিছুক্ষণ রেখে ফেলে দিলেও কাঙ্ক্ষিত স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে পেট ভরানোর প্রয়োজন পড়ে না।

ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, কার্বোহাইড্রেট রিন্সিং ব্যবহার করা সাইক্লিস্টরা ৪০ কিলোমিটারের পরীক্ষায় আগের তুলনায় দ্রুত সময় শেষ করতে পেরেছিলেন। এ কারণে ফুটবলের পাশাপাশি সাইক্লিং, ম্যারাথনসহ দীর্ঘ সময়ের সহনশীলতার খেলাগুলোতেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

শুধু এটুকুতেই কি পুরো ম্যাচ চলে? না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কৌশল সাময়িকভাবে ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করলেও এটি শরীরের প্রকৃত শক্তির চাহিদা পূরণ করে না। তাই ৯০ বা ১২০ মিনিটের ম্যাচে খেলোয়াড়দের ম্যাচের আগে, হাফটাইমে বা সুযোগ পেলে পর্যাপ্ত পানি, ইলেকট্রোলাইট ও কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করতেই হয়।

যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যায়ামবিজ্ঞানী লিন্ডসে বটমসও মনে করেন, শুধু মস্তিষ্ককে সংকেত দিলেই হবে না। দীর্ঘ সময়ের খেলায় শরীরের শক্তির ঘাটতি পূরণে কিছু পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট ও তরল গ্রহণ করাও জরুরি।

তাই পরেরবার কোনো ফুটবলারকে মুখে পানি নিয়ে কয়েক সেকেন্ড পর ফেলে দিতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি কোনো কুসংস্কার নয়। বরং আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞানের একটি কৌশল, যা খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More