অপ্রতিম হত্যা: আটকের আগে ফেসবুকে যা লিখেছিলেন আনাস

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
শায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে (১৩) হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের আগে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন শাহরিয়া আনাস।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে (১৩) হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের আগে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন শাহরিয়া আনাস। সেখানে অপ্রতীমের সঙ্গে তার পরিচয় ও কথোপকথনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর সংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে ফেসবুকে পোস্ট দেন শাহরিয়া আনাস।

তিনি লিখেন, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন। বাচ্চাদের কাছে দামি জিনিস, তার জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। আল্লাহ তার মা, বাবাকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুক।’

আনাস আরও লিখেন, ‘মাঝেমধ্যে ছেলেটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বলতো যে ভাই কই আছো ছবি তুলবো কয়েকটা। আসলে এগুলো ভেবে এখন খারাপই লাগতেছে।’

এই পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার পরই আনাসকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। এরপরই আনাসের এই পোস্ট আলোচনায় আসে। 

এদিকে, পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতীমের মোবাইল ফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সবশেষ ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।

অপ্রতীম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

এসএ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More