চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন শিল্পী রানী (৪০)। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে তিথী রানী (২৩)। পটুয়াখালী জেলা শহরে ডাক্তার দেখিয়ে রাতে অটোরিকশা চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। কিন্তু বাড়ি আর ফেরা হলো না।
মাঝপথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মা–মেয়ে দুজনই, বাড়ি ফিরল কেবল দুটি নিথর দেহ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কের বসাক বাজারসংলগ্ন ধলুগাজীর বাড়ির মোড়ে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি পরিবহনের চাপায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অটোরিকশায় থাকা মা–মেয়েসহ ৪জনের মৃত্যু হয়।
নিহত অন্য দুজন হলেন– গলাচিপা উপজেলার গোলবুনিয়া ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৪০) এবং অটোরিকশা চালক আব্দুল কাইয়ুম প্যাদা (৫০)। শিল্পী রানী ও তিথী রানীর বাড়ি আমখোলা ইউনিয়নের চারআনি বাউড়িয়া গ্রামে।
নিহতদের প্রতিবেশী ও একই গ্রামের বাসিন্দা সংবাদকর্মী আব্দুল কাউয়ুম জানান, শনিবার বিকালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে জেলা শহরে আসেন শিল্পী রানী ও তাঁর মেয়ে। রাতে চিকিৎসক দেখানোর পর অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। পথেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
তিনি আরও জানান, বাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার চালাতেন শিল্পী রানী।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বরগুনা জেলার তালতলী থেকে ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল ইমরান ট্রাভেলস নামে একটি বাস। জেলা শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে দ্রুতগতিতে মোড় নিতে গিয়ে অটোরিকশাটি চাপা দেয় পরিবহনটি। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে পরিবহনটি, আর তার নিচে চাপা পড়ে অটোরিকশা।
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ক্যাশিয়ার দেলোয়ার গাজী বলেন, যাত্রীদের চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবহনের নিচ থেকে ৩ জনের মরদেহ ও গুরুতর আহত অটোরিকশা চালককে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত ইমরান ট্রাভেলসের যাত্রী মো. সানু হাওলাদার (৬৫) জানান, সামনের আসনে বসেছিলেন তিনি। দ্রুতগতিতে বাঁক নিতে গিয়ে পরিবহনটি অটোরিকশার ওপর উঠে যায়, এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়ে।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা মো. রেজওয়ান বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৯৯৯–এ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। দুই নারীসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পটুয়াখালী সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
উল্লেখ্য, রাত ২টায় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এর মধ্যে, অটোরিকশাচালক আব্দুল কাইয়ুম প্যাদা রাত সাড়ে ১২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে জানান জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।
এসএ