শিরোনাম
প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে বিশেষ আদালত, চালু হবে প্রবাসী কার্ড বাংলাদেশের ‘জয় কেড়ে’ নিলো আফগানিস্তান যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সরকারের নিন্দা আগাম প্রস্তুতিতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ কমেছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী টানা ছুটিতে বান্দরবানের হোটেলে আগাম বুকিংয়ের হিড়িক ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জার্মান পর্যটকের উদ্ধার ল্যাপটপ হস্তান্তর করেছে পুলিশ ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আ. লীগের বিচার দাবি এনসিপির ৩৫ বছর বয়সের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে: আইনমন্ত্রী মেসির চোখে সেরা ১০ উদীয়মান খেলোয়াড়
দীপ্ত নিউজ
বাংলাদেশ

প্রয়াণ দিবস নিয়ে বিভ্রান্তি, বিলীন হতে চলেছে কাঙাল হরিনাথের স্মৃতিচিহ্ন

Deepto News : দীপ্ত নিউজ
দীপ্ত নিউজ ডেস্কপ্রকাশ :
প্রয়াণ দিবস নিয়ে বিভ্রান্তি, বিলীন হতে চলেছে কাঙাল হরিনাথের স্মৃতিচিহ্ন
কুমারখালী জাদুঘরে সংরক্ষিত কাঙাল হরিনাথের ছবি।

গ্রামীণ সাংবাদিকতার প্রবাদ পুরুষ কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ১২৭ তম মহাপ্রস্থান দিবস মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল), ৫ ই বৈশাখ। কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার আসলে কবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন? এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রচারের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বংশধরেরা। বিভিন্ন ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন লেখকদের বইয়ে বলা হচ্ছে ১৮৯৬ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি পরলোক গমন করেছেন। এমনকি প্রশাসনের ওয়েবসাইটও বলছে একই কথা।

উইকিপিডিয়ায় কাঙাল হরিনাখের মৃত্যুর তারিখে বিভ্রান্তি।

এদিকে সরকারের সাথে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের চতুর্থ প্রজন্মের বংশধরদের বনিবনা না হওয়ায় সাংবাদিকতার এই প্রবাদপ্রতিম পুরুষের স্মৃতিচিন্হ এবং সৃষ্টিকর্ম নষ্ট হতে চলেছে।

এ প্রসঙ্গে কাঙ্গাল হরিনাথের চতুর্থ বংশধর স্বর্গীয় অশোক মজুমদারের স্ত্রী গীতা রানী মজুমদার বলেন, ১৮৯৬ সালের ১৮ এপ্রিল এবং বাংলা ১৩০৩ সনের ৫ বৈশাখ তিনি পরলোক গমন করেন। যদিও তাঁদের কাছে কোনো লিখিত দলিল নেই।

তিনি অভিযোগ করে জানান, কোটি টাকা ব্যয়ে কুমারখালীর পৌরসভার পাশে কাঙাল হরিনাথের নামে একটি দৃষ্টিনন্দন জাদুঘর করা হলেও সেখানে প্রদর্শিত কাঙাল হরিনাথের সময়কার তার ব্যবহৃত প্রেস সহ অন্যান্য কিছুই আসল নয় বরং আসলের আদলে করা রেপ্লিকা।

অবশ্য এর কারণ হিসেবে তাঁর বংশধরেরা দাবি করেছেন সরকারের কাছে তাঁদের কিছু দাবিদাওয়া ছিল যা সরকার এখনও পূরণ করেনি। এর মধ্যে অন্যতম চাওয়া, কুমারখালীর কুন্ডুপাড়ায় অবস্থিত (যা বর্তমান যাদুঘর থেকে ৮০০ মিটার দূরে) কাঙাল হরিনাথের বাস্তুভিটায় জাদুঘরটি হোক, সংস্কার করা হোক কাঙাল হরিনাথের সমাধি সহ তাঁর প্রেস ঘরটির। এর সাথে রয়েছে পরিবারের আবাসনের দাবি, জাদুঘরে পরিবারের সদস্যদের চাকুরি প্রদানসহ আরও বিভিন্ন বিষয়।

এদিকে কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দাবি করেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের পরিবারের সদস্যদের দাবি মেনে দ্রুত তাঁর স্মৃতিচিহ্ন মিউজিয়ামে নিয়ে আসা হোক। এতে করে বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত হবে তাঁর সৃষ্টিকর্ম।

এ প্রসঙ্গে নাট্যকর্মী লিটন আব্বাস বলেন, ‘পর্যটক, সাংবাদিক ও নতুন প্রজন্ম কাঙাল হরিনাথের প্রকাশিত নিদর্শনগুলো দেখতে চাইবেন। তারা চাইবেন সেই ১৮৬৩ সালে প্রকাশিত গ্রামবার্তা প্রকাশিকার আসল কপিগুলো ছুঁয়ে দেখতে। তবে আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা কাঙাল হরিনাথকে পেয়েও তাঁর স্মৃতিগুলো হারাতে বসেছি। মীর মশাররফ হোসেনসহ তৎকালীন জনপ্রিয় ও কালজয়ী লেখকদের লেখা ছাপা হয়েছিল কাঙাল হরিনাথের প্রেস থেকে। অথচ এটির রেপ্লিকা আছে জাদুঘরে। ‘

জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক ওবায়দুল্লাহ কাঙাল হরিনাথের মৃত্যুদিবস সম্পর্কে জানান, জাদুঘরের সংরক্ষিত তথ্যে শুধুমাত্র মৃত্যু সাল উল্লেখ আছে। তিনি প্রতিবছরই কাঙ্গাল হরিনাথের বংশধরের মৌখিক দেওয়া তারিখ ১৮ এপ্রিল মৃত্যু বার্ষিকী পালন করেন।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল জানান, ইতোমধ্যে প্রত্নতত্ব অধিদফতর, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন, জাদুঘর কর্তৃপক্ষ, কুমারখালী পৌরসভা পরিবারের সাথে বসেছে। অতি শিগগির তাঁর স্মৃতি চিহ্ন মিউজিয়ামে স্থানান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারকে বলা হয় গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। তিনি ১৮৩৩ সালের ২০ জুলাই নদীয়া জেলার (বর্তমান কুষ্টিয়া) কুমারখালী উপজেলার কুন্ডুপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। জানা যায় গানে ‘কাঙাল’ নামে ভণিতা করতেন বলে এক সময় ‘কাঙাল’ শব্দটি তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। তাঁর প্রকৃত নাম হরিনাথ মজুমদার, কিন্তু কাঙাল হরিনাথ নামেই তিনি সমধিক পরিচিত।

গ্রামের সাধারণ মানুষের উন্নতির জন্য এবং তাদের শোষণ-পীড়নের বিরুদ্ধে হরিনাথ সারাজীবন আন্দোলন করেছেন। ১৮৬৩ সালে তিনি নিজেই ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।

এতে সাহিত্য, দর্শন ও বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হলেও কৃষকদের প্রতি তৎকালীন নীলকর ও জমিদারদের শোষণ-অত্যাচারের কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হতো। ফলে ব্রিটিশ সরকার এবং স্থানীয় জমিদারদের পক্ষ থেকে তাকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এসব কারণে পত্রিকাটি তখন বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে।

 

এমি/দীপ্ত