সরকার কোনোভাবেই মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে নয়: সড়ক মন্ত্রী

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

দেশের কোনো জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশা চলাচলের কোনো ধরনের আইনি সুযোগ নেই বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রাবিউল আলম।

তবে দেশের একটি বিরাট অংশের মানুষের জীবন-জীবিকা ও কর্মসংস্থান এই পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাঁদের মানবিক দিক বিবেচনা করে ধাপে ধাপে একটি টেকসই ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নীতিমালার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

আজ রাজধানীর ধানমন্ডি লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সামাজিক সংগঠন ধানমন্ডি ইয়ুথ ক্লাব এই পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির আয়োজন করে।

সড়ক মন্ত্রী জোরালো কণ্ঠে বলেন, ‘সরকার কোনোভাবেই মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে নয় এবং এটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে একাধিক সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অটোরিকশা ঠিক কোন পরিসরে চলবে এবং কোথায় কোনোভাবেই চলাচল করতে পারবে না—এ বিষয়ে সর্বজনগ্রাহ্য একটি সমন্বিত নীতিমালা চূড়ান্ত করা এখন সময়ের দাবি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের সম্পূর্ণ বিরোধী। আমরা এটি দ্রুততার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করছি। অটোরিকশা স্থানীয় বা ফিডার রোডে কীভাবে চলবে এবং মহাসড়কে এর অনুপ্রবেশ কীভাবে বন্ধ থাকবে—নীতিমালায় তার স্পষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন।’

শেখ রাবিউল আলম জানান, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সকল স্টেকহোল্ডারের যৌথ সমন্বয়ে নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। তবে সেই নীতিমালায় কোনোভাবেই জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের আইনি অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

হঠাৎ চরম সিদ্ধান্ত না নিয়ে কেন পর্যায়ক্রমে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—তার ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ সরাসরি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। তারাও আমাদেরই সমাজের অংশ। ফলে হঠাৎ একক সিদ্ধান্তে গাড়ি বন্ধ করে দিলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই শুধু যানবাহন বন্ধ করাই মূল সমাধান নয়; বরং বিকল্প কর্মসংস্থান ও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের কারণে যারা সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, তাদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকার সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি রাখবে। তাদের কীভাবে অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো স্থানীয় রুটের আওতায় আনা যায় কিংবা শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যায়-সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত কোনো আঞ্চলিক বা অভ্যন্তরীণ সড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি থাকলেও চালকের নূন্যতম ড্রাইভিং দক্ষতা ও বয়সের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কাজের পরিধি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজই হলো উচ্চমানের রাস্তা ও মহাসড়ক নির্মাণ, সম্প্রসারণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা। সে অনুযায়ী কাজ দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে এককভাবে শুধু সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় দায়ী নয় উল্লেখ করে শেখ রাবিউল আলম বলেন, হাইওয়ে ব্যবস্থাপনার সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও হাইওয়ে পুলিশ জড়িত। সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে মহাসড়কের কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মের পুরো দায়ভার এককভাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয়; কারণ সার্বিক আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ খালিদ হাসান জ্যাকীর সভাপতিত্বে সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More