জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে ঢোকাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সঙ্গে জবি কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন ও শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বেলা ১১টার দিকে জকসু নেতারা ও কয়েকজন কিছু প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে ঢুকতে যান।
প্ল্যাকার্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ ও অস্থায়ী হল নির্মাণ, মেডিক্যাল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাব–সুবিধা, টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসক নিয়োগসংক্রান্ত দাবি জানানো হয়। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে জকসু নেতাদের ধাক্কাধাক্কি হয়। জকসু নেতারা মিলনায়তনে প্রবেশমুখের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
অবস্থান কর্মসূচি ও সেমিনার শেষে বের হওয়ার সময় শহীদ মিনারের সামনে ছাত্রদলের সঙ্গে জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের মধ্যে আবারও মারামারি হয়।
এ বিষয়ে জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুক লেখেন, ‘প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।’
এছাড়া, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রদলের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এছাড়া জকসুর প্রতিনিধিদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, আমরা ধারণা করছি, জুলাই বিরোধী শক্তি এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এতে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা আমরা খতিয়ে দেখবো।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ।
এসএ