আব্দুস সালাম ও আফসিয়া জান্নাতসহ শীর্ষ নেতাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালে

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডের একাধিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সদ্য সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ, সদ্য সাবেক মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ, সাবেক সহসভাপতি জিয়াউর রহমান খান রেজোয়ান এবং সদ্য সাবেক উপমহাসচিব ইদ্রিস মিয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম এবং সদস্য এ.এস.এম. কামাল উদ্দিন ও ছায়েদ আহম্মেদ সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের রায়ে এসব নির্দেশনা দেন।

রায়ে বলা হয়, নির্বাচন বোর্ড বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫এর বিধি ১৮() ভুলভাবে প্রয়োগ করে সাবেক নেতাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল। অথচ আটাবের ২০২৪–২০২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি সরকার প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিলুপ্ত করায় সেটিকে আইনগতভাবে মেয়াদ পূর্তিহিসেবে গণ্য করা যায় না। ফলে ওই বিধান প্রয়োগ করে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করার কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না।

ট্রাইব্যুনাল আরও বলেন, সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় সাবেক নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো আইনগত বাধা নেই। তাই তাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বেআইনি এবং তা বাতিলযোগ্য।

শুনানিকালে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের কার্যক্রমেও গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ ও আলোকচিত্রে দেখা যায়, আপিল বোর্ডের তিন সদস্যের মধ্যে মাত্র দুজন শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু শুনানিতে অনুপস্থিত একজন সদস্যও চূড়ান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া আদেশে দুই সদস্যের পদবিও ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে বলেন, বিচারিক নীতির মৌলিক ভিত্তি হলো—“He who hears must decide” অর্থাৎ যিনি শুনানি গ্রহণ করবেন, তিনিই সিদ্ধান্ত দেবেন। শুনানিতে অংশ না নিয়েও আদেশে স্বাক্ষর করা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং আইনগতভাবে ‘Coram Non Judice’

অন্যদিকে মামলা নং ০৫/২০২৬এর শুনানিতে ভোটার তালিকায়ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। রায়ে উল্লেখ করা হয়, বাতিল হওয়া ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্সধারী ব্যক্তি, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রতিনিধি এবং সাধারণ কর্মচারীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি ৪৬ জন বৈধ সদস্যকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।

এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে ১২ জুন ২০২৬ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই রায় আটাবের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় নতুন করে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার পথ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আব্দুস সালাম আরেফ, আফসিয়া জান্নাত সালেহ, জিয়াউর রহমান খান রেজোয়ান ও ইদ্রিস মিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত হয়েছে।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More