মেটলাইফ স্টেডিয়ামের আকাশটা তখন স্প্যানিশদের উৎসবের আলোয় আলোকিত, আর মাঠের ঠিক মাঝখানে একটা নিস্তব্ধ ছায়া।
যে পায়ে ভর করে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ স্বপ্ন দেখতে শিখেছিল, সেই পা দুটি আজ যেন ভারী বড্ড। শেষ বাঁশি বাজার পর রানার্সআপ পদকটা হাতে নিয়ে যখন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন লিওনেল মেসি। দীর্ঘ দুই দশকের জাদুকরী অধ্যায়ের শেষটা কি তবে এভাবেই হওয়ার কথা ছিল?
সম্ভবত নিজ ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর লিওনেল মেসিকে সশ্রদ্ধ ভালোবাসায় সিক্ত করল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
এএফএ লিখে, ‘অধিনায়ক (মেসি), তোমার চোখের জল আমাদেরও অশ্রু। তুমি আমাদের জীবনের সেরা সব আনন্দ এনে দিয়েছ। তোমার এই আত্মত্যাগ, জাদুকরী ফুটবল এবং একদম শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত উজার করে লড়াই করার জন্য ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে চিরকাল ভালোবেসে যাব, লিও!’
২০২৬ বিশ্বকাপে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট নিয়ে আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন মেসি।
৩৮ পেরিয়ে ৩৯–এ পা রাখা মেসি ২০২২–এর সেই বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক কৌশলী ও দুর্দান্ত স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বের কাছে হার মানতে হয় তাঁর দলকে।
আর্জেন্টিনা যখন রানার্সআপ পদক গ্রহণ করছিল, তখন স্পেনের ট্রফি উদযাপনের দৃশ্য দেখে নিজের আবেগ আর কোনোভাবেই আটকে রাখতে পারছিলেন না লিওনেল মেসি।
ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যায়—চোখে জল নিয়ে ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা কিছু সময়ের জন্য দর্শকসারির দিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলেন, তারপর চরম হতাশায় মাথা নিচু করে নিলেন।
এই হারের মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটল আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সোনালী এক অধ্যায়ের। মেসির হাত ধরেই ‘লা আলবিসেলেস্তেরা’ জিতেছিল ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২১ ও ২০২৪ সালের টানা দুটি কোপা আমেরিকা।
তবে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দেশ হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার সেই অধরা স্বপ্নটা এবার শক্তিশালী স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বের কাছে মুখ থুবড়ে পড়ল।
মেসি অবশ্য এটিই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ কি না তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি; তবে ২০৩০ সালের পরবর্তী আসরে তাঁর বয়স গিয়ে ঠেকবে ৪৩–এ। ততদিনে আর্জেন্টিনার এই মহাজাদুকর তাঁর জাদুর পরশ ছড়াতে পারেন কি না তা কেবল সময়ের নির্মম হিসেবই বলে দেবে।
এসএ