মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নতুন এলাকায় বন্যার শঙ্কা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দেশের চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে।

দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের চারটি নদীর পানি পাঁচটি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কুশিয়ারা এবং সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি ২৭ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিতে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার এবং নীলফামারীর ডালিয়ায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশে এবং উজানের ভারতীয় অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত তিন দিনে চট্টগ্রামে ৩৪৭ মিলিমিটার, বান্দরবানের লামায় ৩২৫ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারে ১৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী তিন দিনে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও শেরপুর অঞ্চলে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে ১২৫ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, জাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাইকংস নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। পাশাপাশি সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই সময়ে উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর এবং কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা পার হতে পারে। এর ফলে এই জেলাগুলোর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া গাইবান্ধায় তিস্তা এবং কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চল ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা থাকলেও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও মুহুরী, গোমতী ও হালদা নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে।

সাঙ্গু এবং মাতামুহুরী নদীর পানিও বর্তমানে কমতির দিকে রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির এই উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More