বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়ায় স্কটল্যান্ডের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্টিভ ক্লার্ক। গত মাসে তিনি স্কটল্যান্ডের সাথে চার বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
স্কটিশ ফুটবল এসোসিয়েশন এই তথ্য নিশ্চিত করে ঘোষনা দিয়েছে, ‘আমাদের সবচেয়ে সফল জাতীয় দলের কোচ সাত বছরের দায়িত্ব শেষে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
শনিবার (২৭ জুন) এল–গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইতোমধ্যে নক আউট পর্ব নিশ্চিত করা ঘানাকে ক্রোয়েশিয়া পরাজিত করায় স্কটল্যান্ডের বিদায় ঘটে। সেরা তৃতীয় দলের মধ্যে থাকতে না পারায় স্কটিশদের যাত্রা গ্রুপ পর্বেই থেমে যায়।
৬২ বছর বয়সী ক্লার্কের অধীনে স্কটল্যান্ড দুটি ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নিয়েছে। ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে স্কটল্যান্ড এবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। ১৯৯৮ সালে তারা সর্বশেষ বিশ্বকাপে খেলেছিল। কিন্তু ১৩ বারের প্রচেষ্টায় স্কটিশরা কোন বড় আসরেই গ্রুপ পর্বের বাঁধা পার করতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে হাইতির বিপক্ষে ১–০ গোলের জয় দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয়েছিল। কিন্তু একই ব্যবধানে পরের ম্যাচে মরক্কোর কাছে এবং শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ৩–০ গোলে পরাজিত হয়ে স্কটল্যান্ডের বিদায় সময়ের ব্যপার হয়ে দাঁড়ায়।
তিন পয়েন্ট সত্তেও স্কটল্যান্ড গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে শেষ ৩২’এ খেলতে পারেনি।
মে মাসে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও, অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণের অভিযোগে দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর স্টিভ ক্লার্ক পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে ক্লার্ক বলেন,
“এই বিদায়ের সবচেয়ে আবেগঘন দিকটি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে। ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আমরা যে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি তাদের ছাড়া তার কোনোটি সম্ভব হতো না। তারা যে প্রশংসা ও ভালোবাসা পাচ্ছে, তার সম্পূর্ণটাই তাদের প্রাপ্য। তাদের কোচ হতে পারা আমার জন্য সত্যিই গর্বের ছিল। আমাকে আপনাদের পাশে থাকার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমার উত্তরসূরির জন্য শুভকামনা রইল।“
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে স্কটল্যান্ডের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল ছিল। কিন্তু মিয়ামিতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে ভুলে ভরা পারফরম্যান্সের পর হতাশ ক্লার্ক ম্যাচ–পরবর্তী প্রথম সাক্ষাৎকার দ্রুত শেষ করে দেন।
পরে বিবিসিকে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, নিশ্চিতভাবেই আমরা বাড়ি ফিরছি।“
অন্য গ্রুপ গুলোর বেশ কয়েকটি ফল শেষ পর্যন্ত ক্লার্কের সেই হতাশাজনক ভবিষ্যদ্বাণীকেই সত্যি প্রমাণ করে। যার মধ্যে জার্মানির বিপক্ষে ইকুয়েডরের চমকপ্রদ জয়ও ছিল।
২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের আগে ক্লার্কের উত্তরসূরি হিসেবে ডেভিড ময়েসের নাম সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র যৌথভাবে আয়োজন করবে ২০২৮ ইউরো। সেই টুর্নামেন্টের আটটি আয়োাজক শহরের একটি গ্লাসগো, ফলে স্কটল্যান্ড নিজেদের মাটিতেই খেলার সুযোগ পেতে পারে।