ইন্টারপোল সহযোগিতায় বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অত্যন্ত প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন বেনজীর আহমেদ। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগে ৬টি মামলা করে দুদক। যার একটি পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলা।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে বেনজীরের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলায় বলা হয়, পরিচয় গোপন করে সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ‘নীল’ বা ‘লাল’ পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। বরং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্ট তৈরি করেন।
নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ঢাকা, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেনজীর আহমেদের বিপুল স্থাবর সম্পদের খোঁজ মেলে। তার পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা রয়েছে। দেশে থাকা এসব সম্পদ আদালতের নির্দেশে এরইমধ্যে জব্দ করেছে দুদক।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের হিসাব গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করে দুদক। ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ সময় তাকে বিদেশে অবস্থানরত উল্লেখ করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ মে স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন বেনজীর আহমেদ। তবে, সেদিন তিনি কোন দেশে গিয়েছিলেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাব মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এসএ