বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
FIFA 2026 24H Window
UPCOMING

FIXTURES

Syncing...
MATCH -- GROUP -
- - -
VS
- - -
KICK OFF:
Processing...
বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বজ্রপাতের সময় ৩০/৩০ নিয়ম মানতে হবে

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
বজ্রপাতের সময় ‘৩০/৩০ নিয়ম’ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে বজ্রপাতে প্রাণহানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই দুর্যোগে জীবন বাঁচাতে সবাইকে বজ্রপাতের সময় ‘৩০/৩০ নিয়ম’ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আকাশ চমকানোর পর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে যদি বজ্রপাতের শব্দ শোনা যায়, তবে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে এবং আশ্রয় নেওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘দুর্যোগ বিষয়ক সতর্কতা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংলাপটির আয়োজন করে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর মৌসুমি ও আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, খরা, নদীভাঙন ও ভূমিকম্পের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়। উপকূলীয় অঞ্চলে পানি ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি বজ্রপাতেও প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। তবে ঝড়, বন্যা, অতিবৃষ্টি ও বজ্রপাতের মতো দুর্যোগের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা মেনে চললে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সংবাদমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বর্তমানে সংবাদমাধ্যম দ্রুত মানুষের কাছে দুর্যোগের আগাম বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে যেখানে লাখো মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল, সেখানে এখন সেই সংখ্যা ২০এর নিচে নেমে এসেছে। আগাম সতর্কবার্তার মাধ্যমে প্রাণহানি ও গবাদিপশুর ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে। একইভাবে কৃষি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের কাছে সহজবোধ্য ও নির্ভরযোগ্য সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে হবে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে নিজের সম্পদ নিরাপদ রাখার বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ১৩তম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। তবে সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যা সাধারণ সময়ে বিদ্যালয় এবং দুর্যোগকালে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব কেন্দ্রে গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থা, রান্নার সুবিধা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রশস্ত শৌচাগার রয়েছে। তিনি বলেন, অনেক মানুষ গবাদিপশু ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চান না। তাই এসব সুবিধার তথ্য আরও বেশি প্রচার করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বন্যার সময় সংবাদমাধ্যম তথ্য জানতে বেশি যোগাযোগ করে। কিন্তু বন্যার আগেই যদি আগাম সতর্কবার্তা নিয়মিত প্রচার করা হয়, তাহলে মানুষ প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বেশি সময় পায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষকে নিয়ে আসার কাজ করে তাঁর মন্ত্রণালয়। এ কাজে ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন। তবে মানুষ অনেক সময় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ওপর বেশি আস্থা রাখে। তাই আগাম বার্তা ও আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, দুর্যোগের প্রভাব সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না। নারী, মেয়ে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁদের জন্য দুর্যোগপূর্ব সতর্কবার্তা এবং দুর্যোগপরবর্তী সেবার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বজ্রপাতের আগাম সতর্কবার্তা এবং করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোমেনুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, আগাম সতর্কবার্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সঠিক তথ্য যেমন প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে, তেমনি ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সহজ ভাষায় সঠিক তথ্য প্রচারে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ৫০ জন সাংবাদিক এই মিডিয়া সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More