মানুষের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ সকালবেলা। ইসলাম ধর্মে সকালের সময়টাকে অত্যন্ত বরকতময় বলে অভিহিত করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছেন, “হে আল্লাহ, আপনি আমার উম্মতের জন্য সকালের সময়টাতে বরকত দান করুন।” (আবু দাউদ)।
তাই দিনের শুরুটা যদি সঠিক আমল ও নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে করা যায়, তবে তা কেবল মানুষের আধ্যাত্মিক প্রশান্তিই বাড়ায় না, বরং দিনভর কাজে মনোযোগ এবং জীবিকায় (রিজিক) বরকত এনে দেয়।
সাফল্যের প্রথম চাবিকাঠি হলো অলসতা বর্জন করে দ্রুত দিন শুরু করা। মহানবী (সা.) সুবহে সাদিকের পর ঘুমানো অপছন্দ করতেন। ফজর নামাজ জামাতের সাথে আদায় করার মাধ্যমে দিনটি শুরু করলে তা মানসিক চাপ কমায়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতেও, সকালের নির্মল বাতাস মানুষের মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে, যা সারাদিনের উৎপাদনশীলতা ও কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
রিজিক বৃদ্ধির জন্য সকালের অন্যতম বড় আমল হলো ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি ধন–সম্পদ ও সন্তান–সন্ততি বাড়িয়ে দেন। তাই সকালে অন্তত ১০০ বার “আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠ করা উচিত, যা রিজিকে বরকত ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে মুক্তির অন্যতম বড় মাধ্যম।
পাশাপাশি হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি নিয়মিত সূরা ওয়াকিয়াহ তিলাওয়াত করবে, সে কখনো অভাব–অনটনে পড়বে না। সকালে কাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে বা ফজরের পরে এই সূরাটি পাঠ করার অভ্যাস করা জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সকালবেলা আল্লাহর কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিজিক এবং কবুলযোগ্য আমলের দোয়া করতেন। সকালে এই দোয়াটি পড়া অত্যন্ত বরকতময়— হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র জীবিকা এবং কবুলযোগ্য আমলের প্রার্থনা করছি। একই সাথে নতুন একটি দিন উপহার পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং সকালে সাধ্য অনুযায়ী কিছু দান বা সদকা করলে দিনের কাজ সহজ হয় ও উপার্জনে বরকত আসে।
তবে ইসলাম কেবল আমল করতেই শেখায় না, বরং হালাল উপার্জনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করারও তাগিদ দেয়। আধ্যাত্মিক আমলের পাশাপাশি সকালের শান্ত পরিবেশে সারাদিনের কাজের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে নেওয়া এবং অলসতা না করে সকাল সকাল কাজে নেমে পড়া উচিত। আর্থিক উন্নতি ও জীবনের সার্বিক কল্যাণ কেবল কঠোর পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে না, বরং তার সাথে স্রষ্টার রহমত ও বরকতেরও প্রয়োজন। তাই সকালের এই আমল ও নিয়মগুলো দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে মানসিক প্রশান্তি ও কর্মজীবনে অভাবনীয় সাফল্য ও উন্নতি আনা সম্ভব।
মাসউদ/এসএ